প্রকাশ: রোববার, ১০ মে, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম (ভিজিট : ৭০)

X
চিতলমারীতে ধান কাটা নিয়েই দুশ্চিন্তায় কৃষক, প্রকৃতি ও বাজার দুদিকেই চাপ
প্রতিদিন আকাশে মেঘ হচ্ছে, ঝড়-বৃষ্টি আসছে আর এ কারণে ধানকাটা শ্রমিকের মূল্য দ্বিগুণ হয়েছে অথচ বাজারে ধানের সঠিক দাম নেই। এখন জমির ধান কিভাবে ঘরে তুলব কিছুই ভেবে পাচ্ছি না। এভাবে হতাশার কথা বলছিলেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কুরমণি মাঠের বোরোচাষি মালেক শেখ।
স্থানীয় চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় এখন বোরো ধান কাটা মৌসুম শুরু হয়েছে। মাঠভরা সোনালি ধান। এ অবস্থায় আকাশের অবস্থা বেগতিক হওয়ায় এ ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।
একদিকে প্রতিদিন আসছে ঝড়-বৃষ্টি অন্যদিকে শ্রমিক সংকট ও ধানকাটা এবং মাড়াই মেশিন চালাতে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। অন্য দিকে বাজারে ধানের দাম অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক কমে যাওয়ায় দেড় মণ ধানের দামে মিলছে না একজন শ্রমিক। বর্তমানে একজন ধানকাটা শ্রমিকের জন্য ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে। অথচ বাজারে একমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায়। এ অবস্থায় ফঁড়িয়া ও মহাজনরা ধানের দাম কমিয়ে দিয়ে চাষিরদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে ধান ক্রয় করছেন। এতে চাষিদের ধান চাষের জন্য আসল চালান দূরে থাক বড় ধরণের লোকসান গুনতে হবে বলে জানান অনেকে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামিতে ধানচাষ থেকে চাষিরা বিরত থাকবে বলে জানালেন অনেকে।
দুর্গাপুর মাঠের বোরোচাষি প্রতুল হালদারসহ অনেকে জানান, বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও থেকে টাকা এনে চাষাবাদে তারা ব্যয় করেছেন কিন্তু এখন বাজারে ধানের মূল্য কমে আসায় অনেক লোকসান গুনতে হবে তাদের। কিভাবে ঋণের টাকা শোধ করবেন তার কিছু ভেবে পাচ্ছেন না। আগের চেয়ে এখন ধান উৎপাদনে খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ। এ খরচের টাকা কোন ভাবেই ঘরে তুলতে পারবেন না তারা। অন্যান্য বছর বাজারে ধানের মণ ১২০০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে অথচ এবছর প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর জন্য স্থানীয় ফঁড়িয়া, মিলমালিক ও গুদাম মালিকদের কারসাজির কারণে ধানের দাম এতা কমে এসেছে বলে অভিযোগ তাদের।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার সিফাত আল মারুফ জানান, চলতি বোরো মৌসুমে এলাকায় ১২ হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এ বছর বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফসল মাড়াই ও কাটার জন্য এ পর্যন্ত শতাধিক চাষিদের তেলের কার্ড দেওয়া হয়েছে তবে এলাকায় একটি তেলের পাম্প থাকায় সেখান থেকে ঠিকমত তেল সরবরাহ করতে পারছেন না। এছাড়া ১৪৪০ টাকায় সরকার ধান কেনার ঘোষণা দিয়েছেন সেটি চালু হলে চাষিরা সঠিক মূল্য পাবে বলে তিনি অভিমত দেন।