
X
এটিএম আজহার
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, শহীদ মতিউর রহমান নিজামী ভারতের চক্ষুশূল ছিলেন। আধিপত্যবাদী শক্তিরা তাকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করেছে। সরকারকে বলব নিজামী হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। না হলে মনে করব আপনাদের সঙ্গে তাদের আঁতাত রয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সাঁথিয়ায় জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে শহীদ আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ১০ম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে জীবন ও কর্ম শীর্ষক আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এক নিজামী এক মুজাহিদকে হত্যা করে আমাদের শেষ করতে পারবেন না। রক্তের বদলা নিতে হবে। তার রেখে যাওয়া স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। এদেশে একদিন ইসলাম কায়েম হবেই। ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে ইসলামী আন্দোলন দমানো যায় না।
জাতীয় নির্বাচনে ফলাফল জালিয়াতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সদ্য হয়ে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনে ফলাফল কারচুপি করে আমাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। জনগণ বলে যে ভোট দিলাম দাঁড়িপাল্লায় আর ক্ষমতায় গেলো ধানের শীষ। এখন ক্ষমতায় গিয়ে যা মনে চায় তাই করতেছেন। এর পরিনতি ভালো হবে না। ৭০ শতাংশ ভোটের রায় মেনে নিন। রাজপথের আন্দোলন কখনো ব্যর্থ হয়নি। এটা দ্রুত মেনে নিন।
শেখের বেটি নাকি দেশ থেকে পালায় না।আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি কিন্তু ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। সীমান্তে পাখির মত গুলি করে হত্যা করে, তিস্তায় পানি দেয় না। সেই দেশ বন্ধু দেশ হতে পারে না।জামায়াতকে যদি নির্মূল করা যায় তাহলে আরামে স্বার্থ হাসিল করতে পারবে।
ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে যাওয়া এই জামায়াত নেতা বলেন, আমরা কিন্তু সবাই দেশেই ছিলাম। কেউ বিদেশ পালাইনি। বিদেশ থেকে এসে ফাঁসিতে ঝুলেছে। বীরের বেশে ফাঁসি বরণ করতে হয়েছে। আজকে অনেকই বড় বড় কথা বলেন, যারা বিদেশে অবস্থান করে এখন দেশে এসেছে। আপনাদের পরিনতি কিন্তু বেশি ভালো হবে না।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, নিজামী সাহেবকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়াই ছিল অবৈধ। বিচার কাজের সঙ্গে যারা জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে। সবাই খুনি। এমন একজন ভদ্র ঠান্ডা মানুষকে হত্যাকারী সবাই খুনি।
খুবই সুক্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন। আধ্যাত্মিক নেতা ছিলেন। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ইশারায় হত্যা করা হয়েছে। ভারত পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দকে হত্যার মাধ্যমে জামায়াতকে নির্মুল করতে চেয়েছে তারাই নির্মুল হয়ে গেছে। এখন যারা নির্মুল করতে চাবেন তারাই নির্মুল হয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন,পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নিজামীপূত্র ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান মোমেন, সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি অধ্যাপক আনিছুর রহমানের সঞ্চালনায় এসময় বিশেষ আলোচকবৃন্দ ছিলেন, পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ আলী আসগর।
এছাড়াও বক্তব্য দেন, আটঘরিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম খান, পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর প্রিন্সিপাল মাওলানা ইকবাল হোসাইন, পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান, সহকারী সেক্রেটারি আবু সালেহ আব্দুল্লাহ, এসএম সোহেল প্রমুখ।
২০১৬ সালের ১১ মে মানবতাবিরোধী মামলায় ফাঁসি দেওয়া হয় জামায়াতে ইসলামী আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে।