প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ১:২৪ পিএম আপডেট: ১৬.০৫.২০২৬ ১:২৬ পিএম (ভিজিট : ১১৭)

X
সৈয়দপুরে হাটে গরু আমদানি প্রচুর হলেও মানুষজনের হাতে টাকা না থাকায় বেচাকেনা কম
পবিত্র ঈদুল আযহা আসতে আর মাত্র ১০/১১ দিন বাকি। কিন্তু, সৈয়দপুরের পশুরহাটগুলো জমে উঠেনি। হাটগুলোতে গরু আমদানি প্রচুর থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি নিত্যান্তই কম। তার ওপর দালালদের দৌরাত্ব অনেক বেড়ে গেছে। যার ফলে যারা একটু আগে-ভাগে গরু কিনতে হাটে আসছেন তারা দালালদের দৌড়াত্বে বাড়তি দামে পশু কিনতে যেমন বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন তেমনি পশু বিক্রেতাদের বিক্রির আশাতেও গুড়েবালি পড়েছে।
হাটে আগত বেশীরভাগ ক্রেতা পশুর দরদাম করে পশু কেনার চেষ্টা করছেন, তবে, দামে বনিবনা না হওয়ায় অধিকাংশ ক্রেতাই পশু কিনতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তবে, হাটে ক্রেতা সাধারণের মধ্যে শহরের লোকদের আধিক্য বেশী বিশেষ করে চাকুরীজীবি ও ব্যবসায়ী লোকজনদের। আর গ্রামের ক্রেতা নেই বললেই চলে।
গতবারের তুলনায় এবার পশুর দাম অপেক্ষাকৃত বেশী। তারপরেও না কিনতে পারার কারণ হিসেবে অনেকে জানান, যেসব বড়-বড় গৃহস্থ রয়েছেন তারা বর্তমানে ধান কেটে ঘর করতে ব্যস্ত তাছাড়া বৈরি আবহাওয়ার কারণে ধান শুকাতে কষ্ট হওয়ায় অনেকেই কাঁচা ধান কমদামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। আর মধ্যবিত্ব গৃহস্থের অবস্থাতো আরো খারাপ। তাদের হাতে নগদ টাকা-পয়সা নেই। তাদের হাতের নগদ অর্থ ইরি-বোরো আবাদের পেছনে শেষ হয়েছে। চলতি ধান ঘরে না উঠায় এখন প্রায় হাতশূণ্য অবস্থায় রয়েছেন। ফলে গ্রামের লোকের আকাল পড়েছে হাটগুলোতে।
এদিকে গ্রামের নিম্ন ও প্রান্তিক চাষীরা একটু বেশী দামের আশায় তাদের পালিত গরু-ছাগল হাটে নিয়ে এলেও ক্রেতার অভাবে তাদের পশু বিক্রিতে ভাটা পড়েছে।
শুক্রবার (১৫ মে) এলাকার সবচেয়ে বড় পশুরহাট ঢেলাপীরের এ চিত্র মিলেছে। হাটে মানানসই মধ্যম সাইজের ষাড় ও বাঞ্জি ভেদে একটি গরু ৬০ হাজার থেকে ৮০/৯০ হাজার টাকা এবং বড় আকারের গরু ১ লাখ ২০ হাজার থেকে পৌণে দুইলাখ টাকা পর্যন্ত মিলছে। ছাগলের দামও বেশী। তারপরেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আগে যেসব ব্যক্তিরা একাই পশু কুরবানি দিতেন, তারাও অর্থিক সংকটের কারণে কয়েকজন মিলে ভাগে কুরবানি দেয়ার জন্য পশু কেনার চেষ্টা করছেন।
কথা হলে হাট ফেরত কয়েকজন ক্রেতা জানান, হাটে বাইরে থেকে পাইকাররা গরু কিনে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়ায় আর দালালদের দৌরাত্বে হাটে কুরবানীর পশুর দাম ওজন অনুযায়ী বেশী হাঁকা হচ্ছে। যার জন্য কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া যারা স্বচ্ছল তারা আগে-ভাগেই স্থানীয় পশুর খামারগুলোতে কুরবানীর পশু কিনতে টাকা দিয়ে বুকিং দিয়েছেন। আবার অনেক ফড়িয়ারা টাকা দিয়ে খামার ও হাটগুলো থেকে পশু কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়ায় ঈদ যত এগিয়ে আসছে তত দামও বেশী হচ্ছে। অথচ, ক’দিন আগেও পশুর দাম কম ছিল।
তবে হাট ইজারাদারের সূত্র জানায়, ঈদের এখনো বাকি রয়েছে। সামনের হাটের দিনগুলোতে বেচা-কেনা বাড়বে। অন্যদিকে পশু কেনাবেচা না জমায় চামড়া আমদানিতে ধ্বস নামবে বলে আশংকা করছেন স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ঢাকার ট্যানারী মালিকরা বকেয়া পরিশোধ না করায় পুঁজি সংকটে ভুগছেন চামড়া ব্যবসায়ীরাও।