
X
বিনামূল্যে চক্ষু শিবির
মানবিক উদ্যোগ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সামাজিক সংগঠন ‘মরহুম আব্দুল বারী স্মৃতি পাঠাগার’। সংগঠনটির উদ্যোগে এবং বগুড়ার বেতগাড়ী গ্রামীণ জিসি চক্ষু হাসপাতালের কারিগরি সহযোগিতায় উপজেলার শালিখা উত্তরপাড়ায় দিনব্যাপী এক বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। এলাকার পাঁচ শতাধিক অসহায়, দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং উন্নতমানের চশমা পেয়ে ব্যাপক উপকৃত হয়েছেন।
গ্রামীণ জনপদে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত এই স্বাস্থ্য শিবিরে সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা রোগীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সেবা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। অনেকেই জানান, অর্থাভাবে দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যার চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। ফলে এমন আয়োজন তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।
৫নং মধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মরহুম আব্দুল বারী স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি মো. আব্দুল ওয়াদুদ, সোনালী ব্যাংক পিএলসি সোনাতলা শাখার ব্যবস্থাপক সুলতান মাহমুদ, শালিখা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. আহসান হাবিব, পাঠাগারের কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাফিউল ইসলাম সিজা, নাফিউল ইসলাম নাফিসসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
চিকিৎসা শিবিরে বগুড়ার গ্রামীণ জিসি চক্ষু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান রোগীদের চোখ পরীক্ষা, পরামর্শ প্রদান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেন। রোগীদের চোখের বিভিন্ন সমস্যা শনাক্ত করে অনেককে চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ ও উন্নতমানের চশমা বিতরণ করা হয়।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে প্রবীণ ও দরিদ্র মানুষরা বিনামূল্যে এমন উন্নত সেবা পেয়ে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শালিখা গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী আব্দুস সামাদ বলেন, “অনেকদিন ধরে চোখে ঝাপসা দেখতাম। টাকার অভাবে শহরে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে পারিনি। আজ বাড়ির কাছেই ভালো ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ ও চশমা পেলাম। চশমা পরে এখন অনেক পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি। যারা আমাদের মতো গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, আল্লাহ তাদের ভালো রাখুক।”
একইভাবে ৬২ বছর বয়সী হাজেরা বেগম বলেন, “চোখের সমস্যার কারণে ঠিকমতো সুঁই-সুতাও ধরতে পারতাম না। চলাফেরাতেও কষ্ট হতো। আজ ডাক্তার খুব যত্ন করে চোখ পরীক্ষা করেছেন, ওষুধও দিয়েছেন। এমন উদ্যোগ আমাদের মতো অসহায় মানুষের জন্য অনেক বড় সহায়তা।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গ্রামীণ অঞ্চলে এখনও অনেক মানুষ আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষ করে চক্ষু চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় দরিদ্র মানুষদের জন্য তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সমাজের বিত্তবান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রমে এগিয়ে আসতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আলীম বলেন, “মরহুম আব্দুল বারী স্মৃতি পাঠাগারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। একটি পাঠাগার শুধু বইপাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করছে, এটি সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এমন আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করি।”
স্থানীয়রা জানান, বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবিরের মাধ্যমে শুধু স্বাস্থ্যসেবাই নয়, সমাজে মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতারও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মরহুম আব্দুল বারী স্মৃতি পাঠাগার।