
X
ছবি: প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা, বাগান ও রাস্তার পাশের গাছে এখন ঝুলছে কাঁঠাল। কোথাও ছোট, কোথাও মাঝারি, আবার কোথাও বড় আকারের কাঁঠাল পেকে উঠতে শুরু করেছে।
সুগন্ধ ছড়ানো এ মৌসুমি ফল বাজারে উঠতে শুরু করলেও পুরোদমে বিক্রি শুরু হতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুস্বাদু ও রসালো কাঁঠালের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত শ্রীপুর অঞ্চল। প্রতিবছরের মতো এবারও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে। বিশেষ করে মাওনা, কেওয়া, বরমী, তেলিহাটি, রাজাবাড়ি ও গাজীপুর ইউনিয়নের বাগানগুলোতে প্রচুর কাঁঠাল ধরেছে।
গাছের গোড়া থেকে শুরু করে মগডাল পর্যন্ত ঝুলে থাকা কাঁঠালই বলে দেয়, ফলনের জন্য এই এলাকার মাটি কতটা উপযোগী। এবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কাঁঠাল গাছে ব্যাপকহারে ফলন লক্ষণীয়। এই মৌসুমে এলাকার অনেক পরিবার কাঁঠাল বেচাকেনা করে আয় করে থাকেন।
উপজেলার তেলিহাটি এলাকার চাষি এমদাদুল হক বলেন, “এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে প্রচুর কাঁঠাল এসেছে এবং কাঁঠালের আকারও বড় হয়েছে।
আমার একটি বাগান পাইকারের কাছে আগাম বিক্রি করে দিয়েছি। গত বছরের চেয়ে এবার একটু ভালো দাম পেয়েছি। কাঁঠাল এখনো পুরোপুরি পাকেনি। আরও কিছুদিন পর বাজারে উঠলে ভালো দাম পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।”
মাওনা এলাকার আরেক বাগান মালিক আবুল হোসেন জানান, গত বছর তুলনামূলক দাম কম ছিল। তবে এবার বাজার ভালো থাকলে লাভ হবে। ইতোমধ্যে পাইকাররা বাগানে এসে আগাম দরদাম শুরু করেছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া বলেন, “শ্রীপুরের কাঁঠালের আলাদা চাহিদা রয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখানকার কাঁঠাল যায়। স্বাদ ও গন্ধ ভালো হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি থাকে।”
জৈনা বাজারের ইজারাদার রাসেল আহাম্মেদ বলেন, “এখন বাজারে অল্প পরিমাণ কাঁঠাল উঠছে। জুন মাসের শুরু থেকে পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হবে। তখন প্রতিদিন ট্রাকভর্তি কাঁঠাল দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হবে।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক পরিবার নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত কাঁঠাল বিক্রি করে বাড়তি আয় করেন। কেউ কেউ মৌসুমজুড়ে কাঁঠাল বিক্রির টাকায় সংসারের খরচ ও সন্তানের পড়ালেখার ব্যয় মেটান।
তবে কাঁঠাল পরিপক্ব হতে আরও ১৫-২০ দিনের মতো সময় লাগতে পারে। তারা জানান, আকৃতিভেদে প্রতিটি কাঁঠালের খুচরা ও পাইকারি মূল্য আনুমানিক ৫০ থেকে ২০০ টাকা হয়ে থাকে। মৌসুমি ফল কাঁঠাল সংরক্ষণ এবং সুষ্ঠু বাজারজাতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকলে চাষিরা কাঁঠালের ভালো দাম পাবেন বলে জানান তারা। সংশ্লিষ্টদের কাছেও এমনটাই প্রত্যাশা কাঁঠাল চাষিদের।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা জানান, উপজেলায় ২৭ হাজার ৫০০ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। এবার ২ হাজার ৯৭৩ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষাবাদ হয়েছে।
এবার আমাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৬২ হাজার ১৫ মেট্রিক টন। কাঁঠালের তেমন কোনো রোগবালাই হয় না, তবুও কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বিশেষ সুবিধা ও যথাযথ পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জুড়ে প্রতিটি কাঁঠাল গাছেই ব্যাপকহারে কাঁঠাল ধরেছে। কৃষকরা যাতে বাজারে ভালো দাম পান, সে জন্য আমরা বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করবো। এছাড়া কাঁঠাল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করার জন্য হর্টেক্স ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে। এর বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।”