
X
ছবি: প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ধানখালী এলাকায় খাল খননের নামে কৃষিজমি নষ্টের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী।
রোববার (২৪ মে) সকালে ধানখালীর খননকৃত খালসংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে খাল খনন বন্ধ, প্রকল্পের নকশা প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকেরা অভিযোগ করেন, উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলে সীমিত আবাদযোগ্য জমির ওপর নির্ভর করেই তাদের জীবিকা চলে। কিন্তু খাল খননের নামে ফসলি জমি কেটে নষ্ট করা হচ্ছে।
কৃষক নেতা জমির আলী বলেন, “১০ ফুটের খাল কাটতে গিয়ে প্রায় ৪০ ফুট কৃষিজমি নষ্ট করা হচ্ছে। এতে কৃষকেরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা ভূপতি ঘোষ বলেন, কাজ শুরুর আগে এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। মূল ঠিকাদারও এলাকায় আসেননি।
স্থানীয় লোকজন বারবার প্রকল্পের নকশা ও ব্যয়ের হিসাব দেখতে চাইলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তা দেখাতে রাজি হননি। এতে মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভ আরও বেড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মজিদ সরদার অভিযোগ করেন, গরিব কৃষকদের জমির ওপর বেশি ক্ষতি করা হলেও প্রভাবশালীদের জমি অক্ষত রাখা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, বারবার ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ত পানির আঘাতে এলাকার অনেক জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। ধানখালীর কিছু উর্বর জমিই ছিল স্থানীয় কৃষকদের শেষ ভরসা। সেই জমিও নষ্ট হলে কৃষকেরা চরম সংকটে পড়বেন।
সেলিনা পারভীন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। এনামুল গায়েন বলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে খাল খননের কারণে শুধু ফসলি জমিই নয়, গ্রামীণ পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি দ্রুত কাজ বন্ধ করে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।
মাধব দত্ত বলেন, খাল খননের নামে কৃষিজমি ধ্বংসের এ অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের নকশা, ব্যয়ের হিসাব ও স্টিমেট জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনক বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।