ভেড়ামারায় টুং-টাং হাতুড়ি পেটা শব্দে মুখরিত কামারশালা গুলো

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কামাররা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের দম ফেলার মতো সময় নেই। দিনরাত

2026-05-25T12:47:56+00:00
2026-05-25T12:47:56+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ভেড়ামারায় টুং-টাং হাতুড়ি পেটা শব্দে মুখরিত কামারশালা গুলো
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম   (ভিজিট : ৯৭)
ভেড়ামারায় টুং-টাং হাতুড়ি পেটা শব্দে মুখরিত কামারশালা গুলো
X

ভেড়ামারায় টুং-টাং হাতুড়ি পেটা শব্দে মুখরিত কামারশালা গুলো

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কামাররা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের দম ফেলার মতো সময় নেই। দিনরাত টুং-টাং হাতুড়ি পেটা শব্দে মুখরিত কামারশালা গুলোতে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বেড়েছে কামার শিল্পীদের ব্যস্ততা। কোরবানির পশুর মাংস কাটার বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরিতে দিন রাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা। কোরবানির ঈদ যতই এগিয়ে আসছে, ততই যেন ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন কামার ও ক্রেতারা।

ভেড়ামারা শহরের মধ্যবাজার কামার শিল্পী শ্রী সম্বু কর্মকার জানান, এখন অনেক কাজের চাপ বেশি। কোরবানি ঈদের আর কয়েকদিন বাকি রয়েছে। বছরে অন্য সময় কাজ কম থাকলেও এখন কাজের চাপ বেশি তুলনামূলক। ১ টিন কয়লার দাম ৮০ টাকা। একজন শ্রমিকের হাজিরা দিতে হয় ৭০০ টাকা। এছাড়াও অন্য খরচ রয়েছে। এ কাজ করে কোনো রকমে সংসার চলে। কাজের ওপর নির্ভর করে টাকা নেওয়া হচ্ছে। কাজের এত চাপ ভাত খাওয়ার মতো সময় নেই।কোরবানির ঈদে যেভাবে মানুষ ধারালো অস্ত্র তৈরি ও শান দিতে আসেন, তা কিছুটা আশার আলো দেখালেও, খরচ বৃদ্ধির কারণে এখন আর আগের মতো আয় হয় না। তবুও তারা পৈতৃক এই পেশাকে ভালোবেসে ধরে রেখেছেন।

কামার পলান কর্মকার বলেন, একসময় কামারদের যে কদর ছিল, বর্তমানে তা আর নেই। মেশিনের সাহায্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে, ফলে তাদের তৈরি যন্ত্রপাতির প্রতি মানুষ আকর্ষণ হারাচ্ছে। তবে কোরবানির ঈদের সময় তারা একটু আশাবাদী হন, কারণ এই সময় তাদের রোজগার ভালো হয়। বর্তমানে কয়লার দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। এর ফলে অস্ত্র তৈরির খরচও বেড়ে গেছে, যা সরাসরি তাদের লাভের ওপর প্রভাব ফেলছে। আগে কয়লা কিনতাম কম দামে, এখন সেই একই পরিমাণ কয়লা কিনতে প্রায় দ্বিগুণ টাকা গুণতে হচ্ছে। ফলে আমাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। দাম বাড়িয়ে বিক্রি করলেও আগের মতো লাভ থাকছে না।

কামার পরিবার সুত্রে জানা গেছে, কামার শিল্পীদের বেশির ভাগ পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া এ পেশা। কামারদের তৈরি যন্ত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে দা, বটি, ছুঁড়ি, চাপাটি, কোদাল, কুড়াল, হাসুয়া ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি। ঈদুল আজহার কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। লোহার দাম বৃদ্ধি, লাগাম হীন বাজার ব্যবস্থা ও স্টেইনলেসস্টিলের যন্ত্রপাতি থাকায় পরিশ্রমের তুলনায় কমমূল্য পাওয়া এসব সঙ্গত কারণেই বছরের বেশীর ভাগ সময়ই কামার শিল্পীদের কর্মহীন জীবন চালাতে হয়। বর্তমান বাজারে কামার শিল্পিদের তৈরি যন্ত্রপাতির ব্যবহার কমে গেছে ফলে হারাতে বসেছে তাদের পৈত্রিক পেশা। 

তবে ঈদ উপলক্ষ্যে কাজ কর্ম বেশি থাকায় বর্তমানে ব্যস্ত তারা। কামারের দোকানগুলোতে শোভা পাচ্ছে পশু জবাই এর বিভিন্ন উপকরণে। লোহার গুণাগুণের ও পণ্যের উপর ভিত্তি করে যন্ত্রপাতির দাম ধরা হয়েছে সর্ব নিম্ন ৫শ টাকা থেকে শুরু করে ৪হাজার টাকা পর্যন্ত। দৈনন্দিন জীবনযাপনের কাজ সহ ঈদুল আযহার কোরবানীর পশুর মাংস কাটার যন্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরীতে কামারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। ১ কেজি ওজনের লোহার একটি দা বা বটি তৈরি করতে ১০০০ টাকা নিয়ে থাকি। এছাড়াও ছুরি তৈরি করতে ছুরির সাইজ অনুযায়ী টাকা নেওয়া হয়। পুরাতন গুলো ঘষামাজা করতে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা নিয়ে থাকি।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy