
X
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কামার পট্টিতে দা-ছুড়ির ঝন-ঝনানি শব্দে কোরবানির আমেজ
পবিত্র ঈদ-উল আযহার মাত্র কয়েকদিন বাকি। এরই মধ্যে ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কামার পট্টির কামারেরা। দিন-রাত চলছে কোরবানির পশু জবাই করা ছুড়ি, চাকু, টাকশাল, চাপাতি শান দেয়ার কাজ।
আবার কামার পট্টি থেকে অনেকেই ছুড়ি, চাকু, টাকশাল, চাপাতি কিনে নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে ঝন-ঝন শব্দে ব্যস্ত সময় পার করছেন, কামার পল্লীর কারিগরেরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আনন্দ বাজারের ব্যস্ততম কামার পট্টিতে ঘুরে দেখা যায়, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে দোকান গুলোতে ইতোৎমধ্যে বেঁচা-কেনা জমজমাট হয়ে উঠেছে। দোকান গুলোতে দা,বটি, চাকু, ছুরি, চাপাতি সহ নানা ধরনের কোরবানি সরঞ্জাম সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখছেন দোকানীরা। দোকানিরা বলছেন, ঈদের দুইদিন আগে জমে উঠবে দা, ছুড়ি সহ চাপাতি সহ দেশীয় অস্ত্রের বাজার।
কামারপট্টির দোকানি গৌতম কর্মকার জানান, পবিত্র ঈদে কোরবানীর পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য আমরা পুরো বছর জুরে দা, ছুড়ি, বটি চাকু, চাপাতি তৈরী করি। প্রতি বছরই বেঁচাকেনা ভালো হয়। এবারো ভালো বেঁচাকেনার আশা করছি।
অপর দোকানী রবীন্দ্র কর্মকার বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোরবানি সরঞ্জাম কেনার বাজারও ঠিক ঈদের দুদিন আগে বেশ জমজমাট হয়ে উঠে। তবে শুরুতে বেঁচা-কেনা ভাল হওয়ায় খুশি তারা।
অপর দিকে ক্রেতারাও বলছেন, দাম আগের মতোই রয়েছে। শহরের মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা আবুল খায়ের জানান, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরই কামার পট্টিতে দা-বটি শান দেয়া এবং কোনার জন্য আসি। যেহেতু কোরবানী দেবো তাই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এবারো কিছু দা,বটি, চাকু ধার করার জন্য নিয়ে এসেছি। তিনি বলেন, কিছু চাকু জং ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। সে গুলো বাদ দিয়ে দু একটি নতুন চাকু কিনেছি। দাম আগের মতোই।
শহরের কাজীপাড়ার আনিসুর রহমান জানান, কোরবানীর সাথে কামার পট্টির একটা যোগসূত্র আছে। একদিকে কোরবানীর পশু, অন্যদিকে পশু কোরবানীর জন্য, মাংস কাটার জন্য দা,বটি, ছুড়ির বিকল্প নেই। তাই কামার পট্টিতে বছরে একবার আসতেই হয়।
এদিকে দা, ছুড়ি, চাকু, চাপাতি সহ দেশীয় অস্ত্রের এই জমজমাট মৌসুমী বাজারে এসব অস্ত্র অপরাধীদের কাছে চলে যাওয়ার আশংঙ্কা করছেন অনেকে। এ অবস্থায় পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারির কথা জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান জানান, কোরবানী ঈদের দেশীয় অস্ত্রের বাজার থেকে অপরাধীদের কাছে প্রাণঘাতি অস্ত্র যেন না চলে যায় এজন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাদা পোষাকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে পুলিশ সর্তক রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।