দুপচাঁচিয়ায় কদম ফুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত পথচারী

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

টানা বৃষ্টির পর মেঘলা আকাশ। এরই মাঝে কদম গাছের ডালপালায় উঁকি দিচ্ছে হলুদ-সাদা রঙের মায়াবী গোলক। রূপসী বাংলার রূপবতী কদমফুল যেন জানান দিচ্ছে বর্ষার আগমনী বার্তা।

2026-06-01T11:49:23+00:00
2026-06-01T11:49:23+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
দুপচাঁচিয়ায় কদম ফুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত পথচারী
দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম   (ভিজিট : ৫০)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

টানা বৃষ্টির পর মেঘলা আকাশ। এরই মাঝে কদম গাছের ডালপালায় উঁকি দিচ্ছে হলুদ-সাদা রঙের মায়াবী গোলক। রূপসী বাংলার রূপবতী কদমফুল যেন জানান দিচ্ছে বর্ষার আগমনী বার্তা। 

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার মেঠো পথে, পুকুরপাড়ে বা বাড়ির আঙিনায় কদম গাছের ডালে ডালে ফোটা ফুলগুলো পথচারীদের নজর কাড়ছে। সবুজ পাতার ওপরে এই সোনালী-সাদা আভা প্রকৃতিতে এনে দিচ্ছে এক অন্যরকম প্রশান্তি। 

বৃষ্টির ফোঁটায় স্নাত কদম ফুলের সুঘ্রাণ চারপাশের বাতাসকে স্নিগ্ধ করে তোলে। এ  ফুলের গঠন শৌলী অন্যান্য ফুলের চেয়ে আলাদা, অসংখ্য সরু পাঁপড়ির মাঝে হলুদ রঙের ছোট পরাগ রেণু মিলে তৈরি বলের মতো গোলাকার আকৃতি। 
সৌন্দর্যের আধার এ ফুল নিয়ে বাংলা সাহিত্যে অনেক কবি সাহিত্যিক লিখেছেন গান ও কবিতা।

“আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে প্রথম কদম ফুল” মহাকবি কালিদাসের এই অমর পঙতি মনে করে দেয় বৃষ্টির দিনের কদম ফুলের আবেদন। সোনাতন ধর্মে রাধা-কৃষ্ণের অপার্থিব লীলায় কদম গাছের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শুধু সাহিত্যে নয়, তরুণ-তরুণীদের বর্ষবরণের উৎসবেও কদম ফুল এখন অপরিহার্য। কদম ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম (Neola marckia cadamba) । নান্দনিক সৌন্দর্যের অধিকারী কদম ফুল ও গাছের কিছু ঔষধি গুণও রয়েছে। এর ফুল, পাতা এবং বাকল কৃমি ও হজমে ঘরোয়া দাওয়াই হিসাবে ব্যবহৃত হয়। 

তবে আগে গ্রামের প্রাই প্রতিটি এলাকায় কদম গাছ দেখা গেলেও নগরায়ণ ও বনজসম্পদ কমে যাওয়ার কারণে এখন এই  গাছ অনেকটাই দুর্লভ। তাই সচরাচর আর তেমন চোখে পড়েনা। পরিবেশবিদদের মতে, দেশীয় প্রজাতির এই গাছ সংরক্ষণে আরও বেশি বৃক্ষরোপণ করা প্রয়োজন।   

কবিরাজ অশ্বিনী কুমার পাল জানান, কদম গাছ মানবদেহের জন্য বেশ উপকার করে থাকে। বিশেষ করে এর পাতা ও বাকলের রস কোষ্ঠকাঠিণ্য, গ্যাস্ট্রিক, বদহজম ও কৃমি নাশক হিসাবে ভালো কাজ করে থাকে। 

বগুড়া সরকারি শাহ্ সুলতান কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এমদাদুল হক এমদাদ বলেন, কদম ফুলের অসাধারণ সৌন্দর্য মানুষকে বিমোহিত করে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের বর্ষার গানে ও কবিতায় কদম ফুল বার বার উচ্চারিত হয়েছে। তাই কদম শুধু ফুল নয়, বাঙালির বর্ষার স্মৃতি, প্রেম ও আবেগের প্রতীক। 

সব মিলিয়ে বলা যায় কদম ফুলের স্নিগ্ধ রূপ দেখে প্রাণ জুড়ায় প্রকৃতি প্রেমীরা। তাই বর্ষাকালের অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি উপভোগ করতে প্রকৃতি যেন তার নিজস্ব সাজে এক মহোনীয় রূপ ধারণ করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। 




  বিষয়:   বৃষ্টি  পথচারী  দুপচাঁচিয়া 



Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy