
X
ছবি: প্রতিনিধি
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গার্ডওয়াল নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কনকাপৈত তুলাপুকুরপাড়ে গার্ডওয়াল নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় পিলার না দেওয়ায় নির্মিত গার্ডওয়ালটি ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে গত ৪ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কনকাপৈত তুলাপুকুরপাড়ে রাস্তার পাশে ৫০ মিটার গার্ডওয়াল নির্মাণের প্রকল্পটি বরাদ্দ হয়। ৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, ৫০ মিটার (১৬৪ ফুট) দৈর্ঘ্যের তুলাপুকুরপাড়-সংলগ্ন রাস্তার গার্ডওয়ালটিতে প্রতি ১২ মিটার পরপর একটি জয়েন্ট হিসেবে চারটি জয়েন্ট (প্রতিটি জয়েন্টে একটি পিলার), প্রতি ১ মিটার পরপর ৬×৬ ইঞ্চি আকারের একটি পোস্ট (পিলার) হিসেবে মোট ৫০টি পোস্ট (পিলার) থাকার কথা। প্রতিটি পোস্ট (পিলার) চারটি রড দিয়ে পাথর-ঢালাইয়ের মাধ্যমে নির্মাণ করতে হবে। প্রতিটি পিলারের উচ্চতা হবে ৩ মিটার বা ১০ ফুট। নিচে ৩ ইঞ্চি সিসি ঢালাইয়ের ওপর ১৫ ইঞ্চি প্রস্থে দেড় ফুট গাঁথুনি এবং এরপর ১০ ইঞ্চি প্রস্থে আরও দেড় ফুট গাঁথুনি করার কথা।
কনকাপৈত এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত অভিযোগে স্থানীয় আব্দুল হক লিটন, রোহিত পাটোয়ারী ও মুরাদ পাটোয়ারী জানান, প্রকল্পের অধিকাংশ শর্ত ভঙ্গ করে কাজ শেষ করেছেন মজিবুর রহমান। প্রকল্পে গার্ডওয়ালের ৮ ফুট উচ্চতার স্থলে ৪ ফুট উচ্চতায় নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া অন্তত ৫৫টি পিলারের স্থলে মাত্র ৩০টি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। এত অনিয়মের কারণে যেকোনো সময় গার্ডওয়ালটি ভেঙে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ গার্ডওয়াল চলতি বর্ষাতেই ধসে পড়তে পারে। প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান কাজ বাস্তবায়নের সময় প্রকল্পের অন্য সদস্যদের মতামতও উপেক্ষা করেছেন। প্রকল্প কমিটির সদস্য মোজাম্মেল বলেন, “কাজের সময় আমাদের মতামত নেওয়া হয়নি। উল্টো নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করায় প্রকল্প সভাপতি মজিব কোনো তোয়াক্কা করেননি।”
কনকাপৈত বাজারের ব্যবসায়ী মো. আমিনুল হক বলেন, “এই কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। মেম্বার মজিব কারও কথা কর্ণপাত করেননি।”
সরেজমিনে দেখা যায়, টেকসই ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে পোস্ট (পিলার)গুলোতে পাথর ব্যবহার করা হয়নি, দেওয়া হয়নি প্রয়োজনীয় রডও। সেগুলো নিম্নমানের কংক্রিট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। পিলারগুলোর উচ্চতা ৫ ফুটেরও কম। গার্ডওয়ালে কোনো জয়েন্ট রাখা হয়নি। ৫৪টি পোস্ট (পিলার) থাকার কথা থাকলেও নির্মাণ করা হয়েছে মাত্র ৩০টি। নিচে করা হয়নি সিসি ঢালাই। পুরো কাজই করা হয়েছে অনেকটা মনগড়া পদ্ধতিতে।
নিম্নমানের কাজ ও অনিয়মের বিষয়ে প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য মজিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কাজের কোথাও ত্রুটি থাকলে অফিস সেটি আমাদের ধরিয়ে দেবে, আমরা তা সংশোধন করতে বাধ্য। আর প্রকল্পের সদস্যদের সঙ্গে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ছিল, বর্তমানে তা মিটে গেছে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, “প্রকল্পের কাজের চূড়ান্ত বিলের জন্য তারা এখনো আবেদন করেনি। আমরা প্রকল্প পরিদর্শন করে কাজ বুঝে পেলে বিল প্রদান করব।”
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন জানান, প্রকল্পটিতে অনিয়মের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।