পদ্মার চরে দুই বাহিনীর গোলাগুলিতে নিহত ১

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহীর বিস্তীর্ণ পদ্মার চরাঞ্চল এখন একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ।বালুঘাট দখল,

2026-06-10T10:15:10+00:00
2026-06-10T10:15:10+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
পদ্মার চরে দুই বাহিনীর গোলাগুলিতে নিহত ১
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১০:১৫ এএম   (ভিজিট : ৫৪)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহীর বিস্তীর্ণ পদ্মার চরাঞ্চল এখন একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। 

বালুঘাট দখল, চরাঞ্চলের ফসলি জমি নিয়ন্ত্রণ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এসব বাহিনীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এসব বাহিনীর হাতে একে-৪৭-এর মতো আগ্নেয়াস্ত্রসহ ভারী অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এক বন্দুকযুদ্ধে কাঁকন বাহিনীর সদস্য ও কথিত ম্যানেজার আজিজুল হক ঝড়ু (৩৫) নিহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর বাঘা এলাকার মণ্ডল বাহিনীর বিল্লাল ও মুনতাজ মণ্ডল, পাবনার ঈশ্বরদীর কাঁকন বাহিনী এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের নাহারুল বাহিনীসহ একাধিক সশস্ত্র গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে পদ্মার বিভিন্ন চরাঞ্চলে সক্রিয়। প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও গুলির মাধ্যমে এসব বাহিনী নিজেদের আধিপত্য জাহির করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা প্রায় ১১টার দিকে রাজশাহীর বাঘা এলাকার মণ্ডল বাহিনী এবং পাবনার ঈশ্বরদীর কাঁকন বাহিনীর মধ্যে নদী ও দুর্গম চরে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে শতাধিক গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। 

বালু উত্তোলন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দ হাজার মৌজার হবির চর এলাকা থেকে বাঘার আলাইপুর চর পর্যন্ত উভয় পক্ষের এই বন্দুকযুদ্ধ হয়।

এ ঘটনায় কাঁকন বাহিনীর সদস্য ও কথিত বালুমহালের ম্যানেজার আজিজুল হক ঝড়ু (৩৫) নিহত হন। তিনি নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার আব্দুল শেখের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সংঘর্ষে আরও কয়েকজন আহত হলেও তাঁদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পরে নাটোরের লালপুর উপজেলার চরজাজিরা মৌজা এলাকার পদ্মা নদী থেকে একটি স্পিডবোটে থাকা মরদেহ উদ্ধার করে পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ। উদ্ধারকালে মরদেহটির মাথায় গুলির চিহ্ন ছিল বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পদ্মার চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গ্রুপগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত চললেও কার্যকর অভিযান ও স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সন্ত্রাসীরা প্রতিনিয়ত অস্ত্র ব্যবহার করে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শফিকুল ইসলাম বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নাটোরের লালপুর থানা এলাকার পদ্মা নদী থেকে একটি স্পিডবোটে থাকা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, মরিচা ইউনিয়নের হবির চর থেকে শুরু করে বাঘার আলাইপুর চর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। কতটি গুলি ছোড়া হয়েছে, তা নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। সন্ত্রাসীরা আধুনিক ভারী অস্ত্র, বিশেষ করে একে-৪৭ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলে সশস্ত্র গ্রুপগুলোর আধিপত্য ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে রাজশাহী রেঞ্জ নৌ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ অক্টোবর দুপুরে পদ্মার চরের কাশবনের জমি দখলকে কেন্দ্র করে কাঁকন ও মণ্ডল গ্রুপের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় মণ্ডল গ্রুপের দুজন এবং কাঁকন বাহিনীর এক সদস্য নিহত হন।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy