প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১১:২২ এএম (ভিজিট : ৬৬)

X
ছবি: প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় কৃষকদের মাঝে ধৈঞ্চা চাষের আগ্রহ বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি জমিতে ধৈঞ্চা চাষ করছেন কৃষকরা। এ চাষের ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। যে কারণে ধৈঞ্চা চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তারা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, ধৈঞ্চা এমন একটি উদ্ভিদ যা বাতাসের নাইট্রোজেনকে নিজের শিকড়ে সংরক্ষণ করতে পারে। এছাড়া এর সবুজ পাতা, ডাল ও শিকড় মাটির সঙ্গে মিশে তৈরি হয় জৈব সার, যাকে বলা হয় সবুজ সার। ফকিরহাট উপজেলায় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ১৭ হেক্টর জমিতে ধৈঞ্চার আবাদ হয়েছিল। সে তুলনায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হেক্টরে। প্রায় দ্বিগুণ জমিতে এর চাষ হচ্ছে। উপজেলায় ৮ শতাধিক কৃষক এ চাষ করেছেন।
মৌভোগ ব্লকের কৃষক আজহার শেখ বলেন, তিনি এবার ৫ বিঘা জমিতে ধৈঞ্চা চাষ করেছেন। এটি ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভালো ভূমিকা রাখে।
বিভিন্ন ব্লকের কৃষক রেজাউল ইসলাম, লিটু শেখ, হালিম শেখ, নিজাম মোল্লা ও মো. হামিদসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, তারা নিজ নিজ জমিতে ধৈঞ্চা চাষ করেছেন। এর ফলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে এবং ফসলের ফলন ভালো হবে।
মৌভোগ ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিপ্লব দাশ এবং লখপুর ব্লকের অভিজিৎ গাইন জানান, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে দুইবার চাষ দিয়ে জমিতে ধৈঞ্চার বীজ বুনতে হয়। বীজ বপনের দুই মাসের মধ্যে গাছে ফুল আসে। এরপর পাতা সবুজ থাকা অবস্থায় মই দিয়ে তা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হয়। কৃষি কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের ধৈঞ্চা চাষে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন জানান, কৃষিজমির প্রাণ ফিরিয়ে আনতে কৃষকরা সবুজ (জৈব) সার হিসেবে ধৈঞ্চা চাষ করে থাকেন। ৫৫-৬০ দিনের ১ হেক্টর আবাদি ধৈঞ্চা থেকে ২৫-৩০ টন সবুজ ধৈঞ্চা উৎপাদন হয়, যা থেকে ১০০-১৫০ কেজি নাইট্রোজেন পাওয়া যায়। এটি ২২০-২৬০ কেজি ইউরিয়া সারের সমতুল্য। এছাড়া মাটির অণুজীবের বংশবিস্তারে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া পানিধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। মাটির ভৌত ও রাসায়নিক গুণাগুণের উন্নয়ন এবং মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সবুজ ধৈঞ্চা সার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফকিরহাট উপজেলায় জমির উর্বরতা শক্তি বাড়াতে কৃষকেরা ধৈঞ্চা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।