
X
গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের উদ্যোগে কর্মশালা
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ সেবাকে আরও কার্যকর করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহমুদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাহাবুব এবং গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী স্বপন দেবনাথ।
কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনায় জানানো হয়, গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পটি দেশের ৮টি বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত ৬১টি জেলা, ৪৬৮টি উপজেলা এবং ৪ হাজার ৪৫৭টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মোট বাজেট ৫০ দশমিক ০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ১৮ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপি যৌথভাবে ৩১ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করছে।
কর্মশালায় আরও জানানো হয়, নেছারাবাদ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত গ্রাম আদালতে মোট ৫৯২টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে প্রেরিত মামলার সংখ্যা ৪৬টি।
বক্তারা বলেন, তিন লাখ টাকা মূল্যমানের মধ্যে দেওয়ানি ও ফৌজদারি সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলা গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। এছাড়া অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা তার মূল্য আদায়, স্থাবর সম্পত্তি বেদখলের এক বছরের মধ্যে দখল পুনরুদ্ধার, চুরি, কলহ, মারামারি এবং স্ত্রীর ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিরোধসহ নানা ধরনের স্থানীয় বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
তারা আরও বলেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হবে। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতের ওপর মামলার চাপও কমবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও সেবাসমূহ সাধারণ মানুষের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।