
X
সংগৃহীত ছবি
ভারত থেকে আসা এক তরুণীকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে একটি দরিদ্র পরিবার। পুরুষবিহীন সংগ্রামী ওই পরিবারে মা-মেয়ের দুবেলা ভাতের নিশ্চয়তাই নেই। সেই পরিবারেই আশ্রয় নিয়েছেন অচেনা এক তরুণী, যার থাকা-খাওয়া ও নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই তরুণী নিজের পরিচয়ও ঠিকভাবে বলতে পারছেন না।
প্রশাসনিকভাবেও তাঁর নিরাপত্তার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা হয়নি। তরুণী যেন দ্রুত তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারেন, সেই প্রত্যাশায় দিন গুনছেন আশ্রয়দাতা পরিবারটি।
জানা গেছে, মেহেরপুরের তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে সম্প্রতি এক তরুণী বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। সীমান্ত এলাকা পেরিয়ে তিনি পিরতলা গ্রামের একটি বাড়ির সামনে অবস্থান নেন।
ভারত থেকে ‘পুশ-ইন’ হয়ে এসেছেন— এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে। দিন শেষে রাত নেমে এলেও ওই তরুণী টগর খাতুনের বাড়ির সামনেই অবস্থান করছিলেন। তাঁর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাতে ঘরে আশ্রয় দেন টগর খাতুন। বর্তমানে বৃদ্ধ মা জাহানারা খাতুন ও টগর খাতুন মিলে কয়েকদিন ধরে তাঁর দেখাশোনা করছেন।
তরুণী জানিয়েছেন, তিনি ভারতের একটি জেল থেকে এসেছেন এবং তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামে। এর বাইরে তিনি তেমন কোনো তথ্য দিতে পারছেন না। ফলে তাঁর পরিবারের সন্ধানও মিলছে না।
স্থানীয়রা জানান, তরুণী তাঁদের বলেছেন যে, ভারতের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর অন্য কয়েকজনের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে তিনি বাংলাদেশে এসেছেন।
কখনও নিজের নাম রোজিনা, আবার কখনও মর্জিনা বলে পরিচয় দেন। বাবার নাম হিসেবে বলেছেন আব্দুল মালেক। এর বেশি কোনো তথ্য তিনি দিতে পারেন না। মেয়েটি অসুস্থ এবং মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় রয়েছে। অনেকের ধারণা, দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কারণেও তাঁর এমন অবস্থা হয়ে থাকতে পারে। তবে তিনি ভারতীয় না বাংলাদেশি, তা নিশ্চিত করতে পারছেন না স্থানীয়রা।
বাড়ির মালিক টগর খাতুন বলেন, “মেয়েটি খুবই অসহায়। অনেক চেষ্টা করেও তার মুখ থেকে ঠিকমতো কথা বের করা যায় না। গতকাল কিছুটা কথা বলেছিল।
জানিয়েছে, তার বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়ায়। মোবাইলে একটি নম্বরও দিয়েছিল, কিন্তু এয়ারটেলের সেই নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তার খাওয়া-দাওয়া, গোসল ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো আমরা দেখভাল করছি। কিন্তু আমাদের বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ নেই। আমি ও আমার মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনো রকমে জীবন চালাই। মেয়েটিকে দীর্ঘদিন আমাদের বাড়িতে রাখা সম্ভব নয়। তাকে যদি তার স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া যেত, তাহলে আমরা স্বস্তি পেতাম।”
স্থানীয়রা তরুণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। তাঁদের মধ্যে একজন রফিকুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে আমরা আর কতদিন তাকে রাখব, সেটাই এখন চিন্তার বিষয়।”
স্থানীয়রা আরও জানান, তরুণী তাঁর বাড়ির যোগাযোগ নম্বর হিসেবে একটি এয়ারটেল নম্বর দিয়েছেন। তবে কয়েক দিন ধরে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। যেকোনো উপায়ে তিনি যেন তাঁর পরিবার ও স্বজনদের কাছে ফিরে যেতে পারেন, সেটাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।
এ বিষয়ে কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহা. আলম হুসাইন বলেন, “তরুণীর দেওয়া মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে তাঁর স্বজনদের খোঁজ করার চেষ্টা চলছে। ইউনিয়ন পরিষদ বিষয়টির খোঁজখবর রাখছে।”
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, “তরুণীর নিরাপত্তা ও খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে কোনো অসুবিধা যেন না হয়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”