
X
ছবি: প্রতিনিধি
উত্তরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার চাপ মোকাবিলায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালকে ১,৫০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে এ লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্প (ডিপিপি) প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে।
তবে হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১৮৭টি অনুমোদিত পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় নতুন শয্যা চালুর পরও কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০০৬ সালে ৫০০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা হাসপাতালটি বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। বগুড়া ছাড়াও জয়পুরহাট, নওগাঁ, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার রোগী এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে ২০১৯ সালে শয্যাসংখ্যা ১,২০০ করা হলেও সেই অনুপাতে জনবল বাড়ানো হয়নি।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে অনুমোদিত ১৮৭টি পদ শূন্য রয়েছে। চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবল না থাকায় সীমিত কর্মী দিয়েই বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসাসেবা, রোগী ব্যবস্থাপনা এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শজিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ওয়াদুদুল হক তরফদার বলেন, বিদ্যমান জনবল দিয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালকে ১,৫০০ শয্যায় উন্নীত করার পাশাপাশি সেই অনুপাতে জনবল অনুমোদন ও নিয়োগ দেওয়া জরুরি।
উপপরিচালক ডা. মনজুর এ. মোর্শেদ বলেন, অনুমোদিত অনেক পদই শূন্য থাকায় প্রতিদিনের চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংকটে হাসপাতালের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনাও ব্যাহত হচ্ছে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, বেডের সংকটে অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য মৌলিক সেবার ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস. এম. নূরুল ইরফান বলেন, হাসপাতালকে ১,৫০০ শয্যায় উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় ডিপিপি প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহযোগিতায় দ্রুত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালকে ১,৫০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি ১৮৭টি শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করা গেলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য আরও কার্যকর ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।