
X
ছবি: প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় তরুণ সমাজ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের দাবির পর নির্মিত মির্জাপুর মিনি স্টেডিয়ামটি এখন চরম অবহেলা ও অযত্নে পড়ে রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, চারপাশের নোংরা পরিবেশ এবং মাঠের ভেতরে ব্যক্তিগত কাজের মালামাল রাখায় স্টেডিয়ামটি এখন প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয় ক্রীড়াচর্চা, ক্ষোভ বাড়ছে খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের প্রধান ভবন ও শৌচাগার দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় চারপাশে জঙ্গল ও আগাছা জমে গেছে। শৌচাগারগুলো ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যা খেলোয়াড়দের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, স্টেডিয়ামের পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ পাশকে স্থানীয়রা যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত করেছেন। বাতাসে সেই আবর্জনার দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো মাঠজুড়ে। এছাড়া মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ এবং পুরোনো জরাজীর্ণ ক্রীড়া সংস্থার ভবনঘেঁষা মাঠের উত্তরাংশ এখন সাধারণ মানুষের উন্মুক্ত মূত্রত্যাগের স্থানে পরিণত হয়েছে। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে মাঠে সাধারণ মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুধু তাই নয়, স্টেডিয়ামের পবিত্রতা ও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মাঠটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। মাঠের ভেতরেই যত্রতত্র ইট, বালু ও খোয়া ফেলে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় ক্রীড়াবিদ ও যুবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় এই মাঠে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেটসহ নানা টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু বর্তমানে নোংরা পরিবেশ এবং মাঠের ভেতরে নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকায় তারা আর ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারছেন না। মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে যেখানে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানো দরকার, সেখানে একমাত্র মিনি স্টেডিয়ামটির এমন বেহাল দশা স্থানীয় সচেতন মহলকে দারুণভাবে ভাবিয়ে তুলছে।
ক্রিকেট খেলোয়াড় রনি সিকদার বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই মাঠে খেলাধুলা করি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে মাঠের বেহাল দশা বেড়েই চলেছে। আমরা চাই দ্রুত মাঠটি সংস্কার করে খেলার উপযোগী করা হোক।”
আরিফ নামে আরেক ফুটবল খেলোয়াড় বলেন, “এখানকার মানুষ মাঠটিকে নিজেদের কাজে ব্যবহার করছেন। কেউ ইট-বালু রাখছেন, আবার সারাক্ষণ মাঠের ওপর দিয়ে চলাচল করছেন। এতে খেলাধুলার সময় বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান চাই।”
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ডি. এম. শফিকুল ইসলাম ফরিদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা মাঠটি ঠিক করতে অনেক চেষ্টা করছি। কিন্তু সাধারণ মানুষ সেগুলো অনুধাবন করতে পারছেন না। ইতোমধ্যে আমরা কিছু কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মাঠটি আরও সুন্দর করা সম্ভব হবে।”
মির্জাপুর পৌরসভার প্রশাসক তারেক আজিজ বলেন, “ইতোমধ্যে স্টেডিয়ামের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ক্রীড়া সংস্থার অন্যদের সঙ্গেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্টেডিয়ামকে একটি আধুনিক ক্রীড়া উপযোগী স্থাপনা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে নতুন অর্থবছরেই চিঠি পাঠাব এবং পুরো মাঠ নিয়ে কাজ করতে চাই। আশা করি, পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে মির্জাপুরবাসীকে একটি বড় উপহার দিতে পারব।”