সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে একটি বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে মদ্যপ অবস্থায় মাতলামির অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে স্থানীয় সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে তিনি তাদের দৌলতদিয়া পতিতালয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেড় লাখ টাকা খরচের প্রস্তাব দেন। পরে টালমাটাল অবস্থায় থাকা ওই শিক্ষককে তার স্বজনেরা ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যান। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের এমন ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নুকালি বহুপার্শ্বিক উচ্চ বিদ্যালয়ে।
জানা যায়, নুকালি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের রুহুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়ের পাশেই বাড়ি হওয়ায় এবং এলাকায় তার পিতার সুনাম থাকার সুযোগে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে সবাইকে তটস্থ করে রাখেন এই শিক্ষক। মাঝে মাঝেই বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে বসেই মদ্যপান করে মাতলামি করেন। প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলার সাহস করে না। মদ্যপ এই প্রধান শিক্ষকের অস্বাভাবিক আচরণে সবসময় ভীতসন্ত্রস্ত থাকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
গত ২ জুলাই আর সব দিনের মতোই বিদ্যালয়ে চলছিল পরীক্ষার আয়োজন। এর মধ্যেই প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন মদ্যপান করে টলতে টলতে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এরপর নিজের অস্বাভাবিক আচরণ এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করে মাতলামি শুরু করেন।
স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে একদল সংবাদকর্মী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ভিডিও ধারণ করতে থাকে। এসময় প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন নিজেকে কুৎসিত ভাষায় গালি দিয়ে জানান, তিনি আজীবন মদ্যপান করবেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে দৌলতদিয়া পতিতালয়ে যাওয়ার বিকৃত প্রস্তাব দেন।
এমন মাতলামি করা অবস্থায় বিদ্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের বাড়িতে খবর দিলে তার স্বজনেরা এসে টালমাটাল অবস্থায় তাকে বাড়িতে নিয়ে যায়।
এদিকে স্বনামধন্য একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কক্ষে বসেই মদ্যপান করায় হতভম্ব এলাকাবাসী এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠানের সুনাম এবং শিক্ষার মান বাড়াতে এমন অপ্রকৃতস্থ শিক্ষকের অপসারণ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন জানান, অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে ইতিমধ্যেই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।