প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম (ভিজিট : ৫৫)

X
ছবি: প্রতিনিধি
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নাশকতার ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে আটক হওয়া যুবলীগ নেতা রিপন সরকারের মুক্তির দাবিতে ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে কয়েকশ গ্রামবাসী থানার প্রধান ফটকে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ মুচলেকা নিয়ে আটক যুবলীগ নেতা রিপন সরকারকে ছেড়ে দেয়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে থানা হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই যুবলীগ নেতার মুক্তির দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সোহেলের নেতৃত্বে দুই শতাধিক গ্রামবাসী।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাতুলীপাড়া গ্রাম থেকে নাশকতার বিষয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ। সূত্রে জানা গেছে, পাতুলীপাড়া গ্রামের হাবিবুর সরকারের ছেলে রিপন সরকার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড (পাতুলীপাড়া) যুবলীগের সভাপতি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাশকতার ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি রিপন সরকারকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আটকের সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনশ্রুতিতে ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে ছাড়িয়ে নিতে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সোহেলের নেতৃত্বে কয়েকশ গ্রামবাসী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে পুলিশ বিক্ষুব্ধ জনতাকে বুঝিয়ে থানার গেট থেকে সরিয়ে দেয়।
ঘটনার পরপরই ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর কক্ষে পুলিশ, ছাত্রদল নেতা সোহেলসহ গ্রামের শীর্ষ কয়েকজন ব্যক্তি আলোচনায় বসেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই যুবলীগ নেতাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সোহেল বলেন, “আমাদের গ্রামের স্বার্থে একটি খাস জায়গার ওপর বাজার বসানো হয়েছে। কিন্তু এটা নিয়ে ভিলেজ পলিটিক্স হচ্ছে। এক ব্যক্তির স্বার্থে তাকে (যুবলীগ নেতা রিপন) থানায় আটক করে নিয়ে আসা হয়েছে। তাই আমরা গ্রামবাসী থানায় এসেছি।”
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকিউল আজম বলেন, “আটক রিপন সরকার ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। নাশকতার বিষয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় মুচলেকা নিয়ে গ্রামবাসীর জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
ঘটনাটি ভাঙ্গুড়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।