রাঙ্গুনিয়ায় ভয়াবহ পাহাড়ধসে নারীর মৃত্যু, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

‎চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গুচ্ছগ্রাম এলাকায় টানা ভারী বর্ষণেচট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় টানা অতি ভারী বৃষ্টির কারণে

2026-07-08T15:19:16+00:00
2026-07-08T15:19:16+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
রাঙ্গুনিয়ায় ভয়াবহ পাহাড়ধসে নারীর মৃত্যু, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৯ পিএম   (ভিজিট : ৫০)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

‎চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গুচ্ছগ্রাম এলাকায় টানা ভারী বর্ষণেচট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় টানা অতি ভারী বৃষ্টির কারণে একই দিনে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও এক নারী আহত হয়েছেন। সকালে একই এলাকায় পাহাড়ধসে আহত সরফবানুকে দেখতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে আরেক দফা পাহাড়ধসের কবলে পড়ে প্রাণ হারান রেনু আক্তার (৫৬)। ভয়াবহ পাহাড়ধসে রেনু বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি মৃত নুরনবীর স্ত্রী।

‎‎মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে গেলে আকস্মিকভাবে দুটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।

‎ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সকালে পাহাড়ধসে সরফবানু নামে এক নারী আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।

এতে রেনু বেগম মাটিচাপা পড়েন। খবর পেয়ে রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

‎ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর অর্জুন বাড়ৈর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের উদ্ধারকারী দল প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নিরলসভাবে অভিযান চালায়।

‎ দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে মাটির নিচ থেকে রেনু বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার এসআই জাকেরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

‎‎রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তাহমিনা জানান, সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ওই নারীকে হাসপাতালে আনা হলেও হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। পরে পুলিশের একটি দল লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

‎তাছাড়া দুদিনের টানা ভারী বর্ষণের ফলে ইসলামপুর,পারুয়া,সরফভাটা,বনগ্রামসহ কর্ণফুলী ও ইছামতি নদীী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে তীরবর্তী বসতঘর ও বাসিন্দারা চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

‎‎এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ে ঝুকিপূর্ণ বসবসারতদের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিংসহ  সতর্ক করা হয়েছে।

‎‎এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গুচ্ছগ্রামটি দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে পড়ায় এখানকার বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করেন। তাদের দাবি, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার সময় প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের ওপরের অংশ থেকে বিশাল মাটির স্তূপ নিচে নেমে এসে রেনু বেগমের বসতঘর চাপা দেয়। আকস্মিক এ ঘটনায় নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

‎উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, অতিবৃষ্টির কারণেই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর অর্জুন বাড়ৈ বলেন, খবর পাওয়ার সাত মিনিটের মধ্যে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।

‎ বিশেষ উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে সতর্কতার সঙ্গে মাটি সরিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

‎তাছাড়া আজ সকালে জিয়া নগরে কাপ্তাই সড়কে অতিবৃষ্টি ফলে গাছ পড়ে যানচলাচল সমস্য সৃষ্টি হলে আমাদের কর্মীরা দ্রুত যানজট মুক্ত করে।

‎ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থানান্তর কিংবা নিরাপদ পুনর্বাসনের বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

‎‎প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সমাধান এখনো অধরাই রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত বসতি, পাহাড় কাটা এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, পাহাড় ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
‎রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, “সকাল ও বিকেলে একই এলাকায় দুটি পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। বিকেলের ঘটনায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং সকালের ঘটনায় আহত নারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

‎ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। পাহাড়ধসের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy