
X
ডেন্টাল কেয়ার
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন ডেন্টাল কেয়ার বা দাঁতের চিকিৎসা দেওয়ার ডেন্টাল ক্লিনিক। এসবের অধিকাংশেরই নিয়মমাফিক নেই চিকিৎসক, নেই অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান ও বৈধ কাগজপত্রও। এসব ডেন্টাল কেয়ারে উপজেলার অনেক মানুষ অপ-চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। এতে রোগীরা হয়রানির শিকার ও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে রমরমা এসব অবৈধ ডেন্টাল কেয়ার ব্যবসা।
সারাদেশের ন্যায় সৈয়দপুরেও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলোসহ এসব ডেন্টাল কেয়ারেও অভিযান চালান স্বাস্থ্য বিভাগ। তারপরেও থেমে নেই এসবের কাজ।
ভুক্তভোগী রোগী ও পরিবাররা জানান, সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নামমাত্র ডেন্টাল ইউনিট থাকলেও সেখানে দাঁত তোলার ব্যবস্থা ছাড়া আর কোনও সেবা মেলে না। হাসপাতালের ডেন্টাল ডাক্তারের মতে, দাঁতের চিকিৎসায় উন্নত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতালে কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ প্রয়োজনীয় সলঞ্জাদি নেই। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শহরের যত্রতত্র গড়ে উঠেছে দাঁতের চিকিৎসালয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলায় বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১৫/২০টি ডেন্টাল কেয়ার রয়েছে। এসব কেয়ারে হরদম দাঁতের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেক ডেন্টাল কেয়ারে চিকিৎসকেরই বিডিএস ডিগ্রিতো নেই ন্যূনতম ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা ডিগ্রিও নেই।
অনেক ডেন্টাল ক্লিনিকে বিভিন্ন নামি-দামি ডেন্টাল (বিডিএস) ডাক্তারের সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে তাদের নাম সন্বলিত প্রেসক্রিপশনের প্যাডে হাতুড়ে ডাক্তাররা নিজেই ওষুধের নামসহ ব্যবস্থাপত্র লিখে গ্রামের কৃষক, দিনমজুর খেটেখাওয়া মানুষকে ধোঁকা দিয়ে চিকিৎসার নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। রোগীদের আকৃষ্ট করার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের নামে টাঙানো হয়েছে আকর্ষণীয় ব্যানার ও সাইনবোর্ড। ভুয়া পদ-পদবি ও অভিজ্ঞতার তথ্য ব্যবহার করে তারা রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। অথচ, বিডিএস করা ভালো ডাক্তাররাও সৈয়দপুর উপজেলায় রয়েছেন। যারা ভালো চিকিৎসা দিচ্ছেন।
উপজেলার কুন্দল গ্রামের এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি এক ডেন্টাল কেয়ারে চিকিৎসা করান। কিন্তু সুস্থ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ভুগে পরে বাইরের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে সুস্থ হয়েছেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী ডিপ্ল্নোমাধারী টেকনিশিয়ানদেরও চেম্বার খুলে জটিল রোগের কোনো চিকিৎসা দেওয়ার বিধান নেই। অথচ দাঁত ওঠানো, বাঁধানো, রুট ক্যানেল, জিআই, ফিলিং, দাঁত সোজা করার মতো স্পর্শকাতর চিকিৎসার কাজ করে যাচ্ছেন এসব কতিপয় হাতুড়ে চিকিৎসক।
তাই এলাকার সচেতন মহল মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে হাতুড়ে চিকিৎসকদের শাস্তির আওতায় আনার দাবী জানিয়ে মত পোষন করেছেন যে, রোগীদেরও এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে কথা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শামসুন্নাহার জানান, এটা দেখার বিষয় সিভিল সার্জন অফিসের। আমরা স্থানীয় ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলো তত্বাবধান করি।
তিনি এসময় জানান, আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলছি। আমরা এসব ব্যাপারে অতি-সত্ত্বর আইনি ব্যবস্থা নিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবো।