প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম (ভিজিট : ৫৭)

X
ভেলায় ভাসছে মরদেহ
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় বন্যার পানির মধ্যে ভেলায় একটি মরদেহ ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে দাবি করা হচ্ছে, বন্যার কারণে দাফন করার মতো শুকনো মাটি না পাওয়ায় মরদেহ ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, ভেলায় মরদেহ বহনের ঘটনাটি সত্য হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও বিকৃত।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, মৃত ব্যক্তি হলেন কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ ফোরকান (ড্রাইভার)। গত শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর পর মরদেহ দাফন করাই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বাড়ির চারপাশসহ পুরো এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত থাকায় কবরস্থানে মরদেহ নেওয়ার স্বাভাবিক কোনো ব্যবস্থা ছিল না। আশপাশে দাফনের উপযোগী শুকনো জায়গাও পাওয়া যায়নি।
পরে স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় কয়েকটি কলাগাছ দিয়ে একটি অস্থায়ী ভেলা তৈরি করা হয়। সেই ভেলায় মরদেহটি কবরস্থানে নেওয়া হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সেখানে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।
ঘটনার প্রসঙ্গে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনাটি সত্য, তবে ভিডিওটি ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে প্রচার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি মাছ ধরতে গিয়ে স্ট্রোক করে মারা যান। তখন সেখানে কোনো নৌকা ছিল না। তারা যে ভেলায় মাছ ধরছিলেন, সেই ভেলাতেই মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে যান। পরে জানাজা শেষে স্বাভাবিক নিয়মে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
ইউএনও বলেন, ভিডিওটি এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে, যেন বন্যার কারণে মাটি না পেয়ে মরদেহ ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে বা প্রশাসনের কোনো সহযোগিতা ছিল না। প্রকৃতপক্ষে এমন কিছু ঘটেনি। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "ভিউ ব্যবসা" বাড়ানোর উদ্দেশে ঘটনাটিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি অলরেডি ফ্যাক্ট-চেক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো তথ্য প্রচারের আগে যাচাই-বাছাই করে নেওয়ার আহ্বান জানান।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি কলাগাছের তৈরি একটি অস্থায়ী ভেলায় সাদা কাফনে জড়ানো একটি মরদেহ বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে সেটিকে বন্যাকবলিত এলাকায় দাফনের সংকটের চিত্র হিসেবে প্রচার করা শুরু হয়।