পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে বিলুপ্তির পথে ভেড়ামারার ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

প্রমত্তা পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীনের পথে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম। প্রবল স্রোতে বসতভিটা, ফসলি জমি

2026-07-15T15:37:07+00:00
2026-07-15T15:37:07+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে বিলুপ্তির পথে ভেড়ামারার ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩৭ পিএম   (ভিজিট : ২৮)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

প্রমত্তা পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীনের পথে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম। প্রবল স্রোতে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভেঙে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পৈতৃক ভিটামাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন শত শত পরিবার। প্রতিবছর নদী ভাঙনে এই নদী তীরবর্তী অনেক মানুষ ভূমিহীন হয়ে এখন নিঃস্ব। ইতোমধ্যে উক্ত এলাকায় নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। উপজেলার রায়টা বেড়িবাঁধ এখন হুমকির মুখে। অত্র এলাকা দিয়ে যাওয়া বেড়িবাঁধ নদী গর্ভে হারিয়ে গেছে।

এলাকাবাসী বলেন, এলাকার মানুষ একদম নিঃস্ব হয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টা আরও দেখভাল করলে ভালো হতো। পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকে এই ভাঙ্গনের মূল কারণ বলে মনে করেন স্থানীয়রা। গত কয়েক বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রণে কিছু জিও ব্যাগ নদীতে দিলেও তীব্র স্রোত ও ভৌগোলিক পরিবর্তনে সেসব বাঁধ টেকসই হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বারবার প্রতিরক্ষা বাঁধ দেয়ার পরও থামানো যায়নি ভাঙন। তাই বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বাঁচাতে মজবুত বাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের। সবাই দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক জায়গায় কথা বলে হয়েছে কিন্তু কোনো উপকার হচ্ছে না। অনেক নেতাই বারবার এসে কথা বলে যান, কিন্তু বাস্তব কাজের কাজ কিছুই হয় না। শুধু আশ্বস্তই করেন।

ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের প্রবীণ অধিবাসী ইয়ার কবিরাজ বলেন, নদীর কয়েকদফা ভয়াবহ ভাঙনে সব হারিয়ে সামান্য যে জমিতে এখন থাকেন সেটুকুই তার শেষ সম্বল। ৬৫ বছর আগে চাকলার চর থেকে এই এলাকায় তাঁর বাপ দাদারা এসে বসবাস শুরু করেছিলেন। শেষ সম্বল বাড়িটুকু হারিয়ে গেলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। পদ্মা নদীতে বিলিন হওয়ার শঙ্কায় কাটছে প্রতিটি রাত।

আমজাদ হোসেন বলেন, সবই চলে গেছে পানির নিচে। বেচাকেনা করলেও মানতে পারতাম। কিন্তু এখানে তো সবই গেছে পানির নিচে। ভিটেমাটি হারিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বহু সচ্ছল পরিবার।

ইউপি সদস্য জাম্মদ কবিরাজ বলেন, গত বছর নদীভাঙনের সময় থেকেই আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছিলাম। তারা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে জি ও ব্যাগ ফেলে ভাঙন কিচ্ছুটা রোধ করেছিলো। এইবার ফয়জুল্লাপুর কবিরাজ পাড়া ভয়াবহ পদ্মার ভাঙনের মুখে।

ময়না খাতুন কান্নায় অবস্থায় বলেন, প্রতিদিন পদ্মার পাড় ভাঙছে। বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে ভাঙন। রাতে ঘুম আসেনা। ছেলে-মেয়ে নিয়ে চরম বিপদে পরেছি। না জানি কখন ফয়জুল্লাপুর কবিরাজ পাড়ার বাড়িঘর পদ্মায় বিলিন হয়ে যায়। সরকার আমাদের কে নদী ভাঙনের হাত থেকে বাঁচাক।

ড. অধ্যাপক নূরুল আমিন জসিম জানান, উপজেলার ফয়জুল্লাপুর কবিরাজ পাড়া ভাঙনের মুখে। এই এলাকা ভাঙ্গনের ফলে সাধারন জনগন অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেড়শ” পরিবার হুমকির মুখে। বাড়িঘর ভাঙনের মুখে। নদী এখন ২শ’ মিটার দুরে রয়েছে। রোধ করা না হলে এই এলাকার বাড়িঘর সব নদী গর্ভে চলে যাবে। তাই ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, আমি ইতিপূর্বে উক্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। তবে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy