
X
বেওয়ারিশ কুকুরের দৌরাত্ম্য
গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারসহ রাস্তাঘাট, অলি-গলি সর্বত্র বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ। এতে চরম অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পথচারীরা। বিশেষ করে শিশু, নারী ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন।
সরেজমিনে উপজেলার ঠাকুরপাড়া এলাকায় দেখা যায় রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে কোন যাত্রী চলাচল করলে অনেক সময় রাস্তার পাশে থাকা বেওয়ারিশ কুকুরগুলো দৌড়ে কামড় দিতে আসে। তখন চালক ভয়ে মোটরসাইকেলসহ রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে যায়। এতে কারো হাত পা এবং শরীরের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হয়ে যায়।
বিশেষ করে উপজেলার ঠাকুরপাড়া আকুলিচালা প্রাথমিক বিদ্যালয় এর পাশে মসজিদের সংলগ্ন স্থানে এ ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে।
সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, কিছুদিন আগে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এরপর থেকে এলাকায় জলাতঙ্ক নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এছাড়া রাত ৮টার পর কুকুরের দল বের হয়ে রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করে। অনেক সময় পথচারীদের তাড়া করে।
কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান বলেন, সন্ধ্যার কোচিং থেকে ফেরার সময় ৪-৫টা কুকুর একসাথে তাড়া করে। দৌড়ে বাসায় যেতে হয়। এভাবে আর চলা যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দা মো.রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সন্ধ্যার পর রাস্তায় বের হওয়া যায় না। বাচ্চাদের স্কুলে একা পাঠাতে কলিজা শুকিয়ে যায়। পৌরসভা বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে।
গৃহিণী সালমা বেগম বলেন,গত সপ্তাহে আমার পাশের বাসার ৮ বছরের বাচ্চাকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। ৫টা করে জলাতঙ্কের ইনজেকশন দিতে হয়েছে। গরিব মানুষ এত টাকা কই পাবে?
কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়,গত এক মাস আগে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে প্রায় ১৫ জন রোগী হাসপাতালে এসেছেন। তাদের সবাইকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন,কুকুর কামড়ালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন নিতে হবে। নাহলে জলাতঙ্ক হলে বাঁচার সম্ভাবনা খুবই কম।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইনএর সাথে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কালিয়াকৈর পৌরসভায় বেওয়ারিশ কুকুরের এই উপদ্রব অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি ইতোমধ্যে পৌর কর্তৃপক্ষ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগকে নিয়ে জরুরি সভা করেছি।তিনি আরও বলেন,পৌর এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু হবে। বেওয়ারিশ কুকুরকে টিকা দেওয়া,বন্ধ্যাকরণ এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করা হবে। জনস্বার্থে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। উপজেলা বাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম কাজ। ইউএনও নগরবাসীকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কুকুরের কামড় খেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করার জন্য।
উপজেলা বাসির দাবি, অবিলম্বে কার্যকর অভিযান চালিয়ে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বন্ধ করা হোক। রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজের সামনে কুকুরমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।