
X
সংগৃহীত ছবি
শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারোপাহাড় জুড়ে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার উদ্বিগ্ন পাহাড়ি জনপদের অধিবাসীরা। পাহাড় থেকে খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসা বন্যহাতির আক্রমনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্ষেতের ফসল, ঘরবাড়ি, সহায়-সম্পদ এমনকি প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
আবার জানমাল রক্ষায় মানুষের হাতে যারা যাচ্ছে বন্য হাতিও। এমন বাস্তবতায় বন্যহাতি সুরক্ষায় হাতি-মানুষের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব নিরসন এবং সহাবস্থান নিশ্চিত করতে শেরপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা রেঞ্জের আওতাধীন বাতকুচি এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘যৌথ আলাপচারিতা’ নামে এক মতবিনিময় সভা।
এতে হাতির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) প্রকৃতিপ্রেমী এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করে তাদের মতামত তুলে ধরেন। আলোচনায় নানাবিধ সমস্যা এবং সমাধানের কথা তুলে ধরে গারোপাহাড়ে বন্যহাতির অভয়ারণ্য গড়ে তোলার দাবী জানানো হয়।
‘হাতি বাঁচলে, বাঁচবে গারোপাহাড়’ এমন শ্লোগানে শেরপুর জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব এবং নাগরিক প্ল্যাটফরম জনউদ্যোগ শেরপুর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এতে সার্বিক সহযোগিতা করেছে ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রণমেন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইডি), প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন এবং টুগেদার ফর এডুকেশন এথলেটিক্স এন্ডমিশন (টিম)। জনউদ্যোগ শেরপুর কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেরপুর জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কবি জ্যোতি পোদ্দার, সমন্বয়ক সাংবাদিক হাকিম বাবুল, শেরপুর বার্ড কনজারভেশন সোসাইটির সংগঠক দেবদাস চন্দ বাবু, স্থানীয় ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম, ইআরটি সদস্য মো. আসমত আলী, টিম সদস্য ইলিয়াস খান প্রমুখ। সভায় হাতি উপদ্রুত বাতকুচি এলাকার মানুষ হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব এবং এনিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরেন। মানুষের বাড়ি-ঘর, ফসল রক্ষার পাশাপাশি বন্যহাতিকে কিভাবে রক্ষা করা যায়, হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব কীভাবে নিরসন করা যায়, এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পাহাড়ে হাতির বাস্তু সংস্থান ও খাবারের উপযোগী বৃক্ষের বাগান তৈরী করতে হবে। পানির আধার তৈরীর পদক্ষেপ নিতে হবে। লোকালয়ে বন্যহাতি আসা কমাতে হলে সীমান্ত জনপদে ধান সহ যেসব ফসল হাতির পছন্দের খাবার সেগুলোর আবাদ কমিয়ে মরিচ সহ হাতির অপছন্দের খাবার ফলানোর দিকে নজর দিতে হবে। মৌমাছি চাষ করে বিকল্প আয় কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।
হাতির চলাচলের পথ ছেড়ে দিতে হবে, সেসব স্থানে ছোট ছোট পুকুর কিংবা পানি ধারনের ব্যবস্থা করতে হবে। হাতিকে উত্যক্ত না করে কিংবা বিদ্যুতে ফাঁদ পেতে হাতি হত্যা বন্ধ করে হাতির সাথে মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তবেই কমে আসবে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব।
বন্যহাতিকে কোনভাবেই উত্যক্ত করা যাবে না। ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ভিউ ব্যবসায়ীরা এখন নতুন উৎপাত হিসেবে দেখা দিয়েছে। তারা বন্যহাতিকে নানাভাবে উত্যক্ত করছে।
এতে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব আরও বেড়েছে। এসব ভিউ ব্যবসায়ী কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের দমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বনবিভাগের তথ্যমতে, শেরপুর জেলার পাহাড়ি জনপদে গত ১৬ বছরে (২০১৪ থেকে এ পর্যন্ত) হাতি-মানুষের দ্বন্দ্বে প্রাণ গেছে ৪৬ জন মানুষের।
এছাড়া হাতির আক্রমণে ঘরবাড়ি, গাছপালাসহ কয়েক কোটি টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে। একই সময়ে হাতি মারা গেছে ৩৪টি।