
X
প্রতীকী ছবি
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় বেশ কয়েকমাস ধরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। লৌহজংসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র গরমে ঘনঘন ও দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে ও রাতে পালাক্রমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে, ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন কাজ ও স্বাভাবিক কার্যক্রম।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিদিন প্রায় ১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর টানা ২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে তীব্র গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। কোন কোন সময় একটানা ৩/৪ ঘন্টাও বিদ্যুৎ বন্ধ থাকেনা বলে তাদের অভিযোগ।
বিশেষ করে রাতের বেলায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন। প্রচণ্ড গরমে অনেক শিশু ঘুমাতে না পেরে কান্নাকাটি করছে। বৃদ্ধ ও রোগীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকাতে হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোতে রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ঘনঘন বিদ্যুৎ যাওয়ার ফলে গরমের মধ্যে শিশু, বয়স্ক ও রোগীদের কষ্ট চরম আকার ধারণ করেছে। রাতে ও দিনে নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। দোকানপাট, ছোট কারখানা, এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
হুটহাট বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় পানির পাম্প বন্ধ থাকা এবং ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চার্জিং ব্যাহত হচ্ছে।
কুমারভোগ এলাকার বাসিন্দা স্বপন বেপারী জানান, প্রতিদিনই বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। একই সঙ্গে লোডশেডিংয়ের প্রকৃত কারণ জানিয়ে জনভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
লোডশেডিং এর বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লৌহজং জোনাল অফিসের ডিজিএম মুহাম্মদ মনসুর হোসেন বলেন, চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড বা স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় কিছুটা লোড শেডিং করতে হয়। তাছাড়া তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হঠাৎ বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়ে যাওয়ায় এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আজ ০৬ আগস্ট বেলা ১২:৪০ ঘটিকায় আমাদের বিদ্যুৎের চাহিদা ২ ৩ মেগাওয়াট অথচ আমরা বরাদ্দ পেয়ছি ১৭ মেগাওয়াট, এসময়ে লৌহজংয়ে আমাদের লোডশেড রয়েছে ৬ মেগাওয়াট।
লৌহজংবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করে যাতে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয় এবং তীব্র গরমে মানুষ যেন কিছুটা স্বস্তি ফিরে পায়।