শাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে

শাবি প্রতিনিধি

শিক্ষা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শাহপরান হলের ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে হলের অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপে অভিযোগ জানানোকে

2026-07-19T15:29:30+00:00
2026-07-19T15:29:30+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
শাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে
শাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:২৯ পিএম   (ভিজিট : ৩৬)
ছাত্রদলের দুই নেতা
X

ছাত্রদলের দুই নেতা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শাহপরান হলের ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে হলের অফিসিয়াল ফেসবুক গ্রুপে অভিযোগ জানানোকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে।

শনিবার(১৮ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাইরুল ইসলাম শাহপরান হলের ক্যান্টিনে পরিবেশিত খাবারের নিম্নমান নিয়ে হলের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি হলের প্রভোস্ট, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ইফতেখার আহমেদকে মেনশন করে ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

পোস্টে খাইরুল উল্লেখ করেন, ৫০ টাকায় পরিবেশিত ছোট আকারের ট্যাঁটকা মাছের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। নির্ধারিত মূল্য নেওয়া হলেও সে অনুযায়ী খাবারের মান নিশ্চিত করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে ক্যান্টিনে স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে হল প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই পোস্টের জের ধরে পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাবিপ্রবি ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান এবং পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান হাসিব খাইরুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে মারধর করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান বলেন,

“বিষয়টি মূলত শুরু হয় যখন এক জুনিয়র শিক্ষার্থী ইফতেখার স্যারকে উদ্দেশ্য করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মেনশন করে মন্তব্য করে। আমি ঠিক কী কথা হয়েছে, সেটা হুবহু বলতে পারব না। তবে ওই মন্তব্যে স্যারের খারাপ লেগেছিল। পরে স্যারের সঙ্গে আমাদের দেখা হলে তিনি হাসিবকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘ছেলেটা কে? সে তো একটু বেয়াদবির মতো আচরণ করছে।’

তখন আমরা বলি, ছেলেটিকে আমরা চিনি, বিশেষ করে হাসিব তাকে ভালোভাবে চিনত। এরপর বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

পরে আমরা গেটে বারবিকিউ আয়োজনের পরিকল্পনা করছিলাম। আমি ব্যক্তিগতভাবে ওই জুনিয়রকে চিনতাম না। সেখানে হাসিব, মোস্তাকিম বিল্লাহ ভাইসহ আরও কয়েকজন ছিল। এলআরের সামনে দাঁড়িয়ে পরিকল্পনা করার সময় হাসিব ওই জুনিয়রকে দেখে ডেকে আনে। মূলত উদ্দেশ্য ছিল স্বাভাবিকভাবে জানতে চাওয়া—স্যারের সঙ্গে কী কথা হয়েছে।

তখন জুনিয়র জানায়, সে স্যারকে বিষয়টি বলেছে। আমরা বলি, স্যারকে অভিযোগ জানানো বা কোনো বিষয় অবহিত করা একজন শিক্ষার্থী হিসেবে তার অধিকার। তবে হাসিব তাকে শুধু এতটুকুই বোঝানোর চেষ্টা করে যে, তার কথায় স্যারের খারাপ লেগেছে। যেহেতু তারা পরিচিত ছিল, সেজন্য বন্ধুসুলভভাবে বিষয়টি বুঝিয়ে বলছিল।

কিন্তু ওই জুনিয়র বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। কথাবার্তার একপর্যায়ে সে উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং সিনিয়রদের সঙ্গে উচ্চস্বরে বেয়াদবিমূলক আচরণ করতে থাকে। আমাদের সামনে আরও অনেক সিনিয়র উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনেও সে একইভাবে উচ্চস্বরে কথা বলছিল। আমরা নিজেরা কখনো সিনিয়রদের সঙ্গে এমন আচরণ করিনি; তারা বকাঝকা করলেও আমরা ক্ষমা চেয়েছি। তাই একজন জুনিয়রের এমন আচরণ স্বাভাবিকভাবেই আমাদের খারাপ লেগেছে।

একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি থেকে ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ সময় হাসিব আহত হয়। তার হাতে আঘাত লাগে এবং রক্ত বের হয়। চোখের পাশেও কেটে যায়। এছাড়া ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তার চশমা পড়ে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে তার হাতে রক্তপাত এবং চোখের পাশের আঘাত স্পষ্টভাবে দেখা যায়।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান হাসিবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ইফতেখার আহমেদ বলেন, "আমি এখন হাসপাতালে আছি। পরে কথা বলব।" এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।

এছাড়া ভুক্তভোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য,  এ ঘটনার  সত্যতা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটিকে তিন দিনের মাঝে প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়েছে।





Loading...
Loading...


শিক্ষা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy