
X
ছবি : প্রতিনিধি
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শ্রীখোলে স্কুলছাত্রী রাজিয়া সুলতানাকে (১৫) ধর্ষণচেষ্টা ও নির্মমভাবে গলা টিপে ও গলা কেটে হত্যা মামলায় আসামি হাসান শেখের মৃত্যুদণ্ড।
আজ সোমবার দুপরে মাগুরার জেলা ও দায়রা জজ মো. মিজানুর রহমানের আদালত রাজিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হাসান শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
চার বছর আগে কুমার নদের পাড়ে বাঁশঝাড়ের নিচে মিলেছিল ১৫ বছরের স্কুলছাত্রী রাজিয়া খাতুনের গলাকাটা মরদেহ। মেয়েকে হারিয়ে যে বাবা থানায় গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে এজাহার করেছিলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সেই মামলায় এবার রায় দিল আদালত।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার হাট শ্রীখোল গ্রামের মিকিজ শেখের মেয়ে, ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী রাজিয়া খাতুন বাড়ি থেকে কুমার নদের পাড়ে রসুন ক্ষেত দেখতে যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
পরদিন দুপুরে গ্রামের এক ব্যক্তি সুজয় কুন্ডুর পেঁপে বাগানের পাশের বাঁশঝাড়ের নিচে একটি মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে রাজিয়ার গলায় ওড়না পেঁচানো এবং গলাকাটা মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পর রাজিয়ার বাবা মিকিজ শেখ শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত ও বিচার শেষে আদালত আজ এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করলেও আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনির হোসেন বাবলু জানান, তারা এই রায়ে সন্তুষ্ট নন এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের পিপি মো: সাখোয়াত হোসেন বলেন, ২০২২ সালে শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী রাজিয়া সুলতানা মাঠে রসুনের জমিতে রসুন তুলতে যায়। সেখানে একই গ্রামের হাসান শেখ তাকে জোরপূর্বক নদীর পাশে একটি বাঁশতলায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হাসান ওড়না দিয়ে রাজিয়ার গলা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে। পরবর্তীতে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ব্লেড দিয়ে তার শরীরে আঘাত ও ক্ষত সৃষ্টি করা হয়।
তদন্তকালীন সময়ে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চুল ও নমুনার সঙ্গে হাসান শেখের ডিএনএ রিপোর্ট ম্যাচ করে, যা আদালতে তার অপরাধের প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়। মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়, যেখানে সকল সাক্ষীই আসামির অপরাধের বিষয়টি প্রমাণ করতে সক্ষম হন।
রায় ঘোষণার পর নিহত রাজিয়ার মা ছবিরন নেছা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, হাসান নামের এই ছেলেটি আমাদের গ্রামেরই। সে আমার মেয়েকে প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত করত। রসুন ক্ষেত থেকে তাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে সে এই নৃশংস ঘটনা ঘটায়। আজকের এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট, তবে আমি চাই এই ফাঁসির রায় যেন অতি দ্রুত কার্যকর করা হয়।
আদালত চত্বরে উপস্থিত একজন তরুণ আইনজীবী রায়ের বিষয়ে বলেন, আইনি প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় কিছুটা সময় লাগলেও সঠিক তদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্টের ভিত্তিতে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। আমরা এই রায়ে খুশি এবং আশা করি উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকবে এবং দ্রুত কার্যকর হবে।
অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন বলেন, আগামী সাতদিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা।
উল্লেখ্য, মাগুরায় ঘটে যাওয়া আলোচিত আছিয়া হত্যা মামলাতেও আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল, যা এখনও কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছে। মাগুরাবাসীর দাবি, রাজিয়ার ক্ষেত্রে যেন রায়ের বাস্তবায়ন শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে যেন এর চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটে।