প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৪ পিএম (ভিজিট : ৪৮)

X
ছবি: প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া চড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২১৮ শিক্ষার্থীর জন্য বর্ষা মানেই প্রতিদিনের দুর্ভোগ। শ্রেণিকক্ষে পৌঁছাতে তাদের হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। কাঁধে স্কুলব্যাগ, হাতে জুতা নিয়ে প্রতিদিনই তারা যাতায়াত করছে।
স্কুল ছুটির পরও একইভাবে পানি ভেঙে বাড়ি ফিরতে হয় শিক্ষার্থীদের। কারও পোশাক ভিজে যাচ্ছে, কারও হাত-পা কাদায় মাখামাখি হচ্ছে। উপজেলা সদরের কাছাকাছি অবস্থান হলেও সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের একমাত্র যাতায়াতের পথ ও মাঠ জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। বই-খাতা ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক শিক্ষার্থী ব্যাগ মাথার ওপর তুলে ধরে কিংবা কাঁধে ঝুলিয়ে সাবধানে পানি পেরিয়ে যায়।
অভিভাবক আব্দুল হামিদ বলেন, বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতিদিন পানি মাড়িয়ে চলাচলের কারণে বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা বাড়ছে। ছোট শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, আশপাশে কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। দ্রুত সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলতাব হোসেন বলেন, বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও ইঞ্জিনিয়ার অফিসের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত সমাধানের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগ হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেদন দিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমস্যার সমাধান হবে এবং স্থানীয় গ্রামবাসীও এ কাজে সহযোগিতা করবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, কয়ড়া চড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যাতায়াত সমস্যার বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আশ্বাস নয় শিশুদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত রাস্তা সংস্কার ও স্থায়ী পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক।