
X
কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল গড়তে মাঠ পরিদর্শন
দেশের অন্যতম আলু উৎপাদনকারী জেলা জয়পুরহাটে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল (এগ্রো এক্সপোর্ট জোন) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণে শুক্রবার জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের বামনাহানি মৌজায় সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী এবং কৃষি সচিব ড. রফিকুল-ই-মোহাম্মদ।
জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কের উত্তর পাশে প্রায় ১০০ একর (প্রায় ৩০০ বিঘা) জমিতে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আলুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির জন্য আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
পরিদর্শনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ, জয়পুরহাটের উপপরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম, কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল্লা আল মাহবুব এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হারুনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাট জেলায় প্রতিবছর গড়ে ৪৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়। এর মধ্যে শুধু কালাই উপজেলাতেই প্রায় সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদিত হয়। উৎপাদনের দিক থেকে জয়পুরহাট দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আলু উৎপাদনকারী জেলা। উৎপাদিত আলুর প্রায় ৩০ শতাংশ জেলার ১৯টি হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়।
তবে পর্যাপ্ত রপ্তানি সুবিধা না থাকায় গত কয়েক বছরে আলুচাষিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক কৃষক লোকসানের কারণে আলু চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রপ্তানিকারকদের দাবি, একসময় বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আলু বিদেশে রপ্তানি হলেও বর্তমানে সেই ধারা অনেকটাই কমে গেছে। তাদের মতে, আলু রপ্তানিতে সরকারি প্রণোদনা ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করায় রপ্তানি নিরুৎসাহিত হয়েছে। ফলে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেও কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছেন না। তারা প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক রপ্তানি অঞ্চল গড়ে তোলার দাবি জানান।
জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠা হলে এ অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। বিশেষ করে আলুভিত্তিক শিল্প ও রপ্তানি কার্যক্রম গড়ে উঠলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রস্তাবিত কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে জয়পুরহাটের কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারিত হবে এবং দীর্ঘদিনের লোকসান থেকে মুক্তি পাবেন জেলার হাজারো কৃষক।