
X
সংগৃহীত ছবি
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে বের হন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান।
সিনিয়র জেল সুপার বলেন, গত রোববার মামলার শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি জাকির আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসাইনের বেঞ্চ হাফিজুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার কুমিল্লা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জামিনের কাগজপত্র পেয়ে যাচাই-বাছাই করে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২১ এপ্রিল রাতে হাফিজুর রহমানকে ঢাকার কেরানীগঞ্জে তাঁর বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করেন পিবিআই পরিদর্শক ও মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তারের ৩ মাস ১৪ দিনের মাথায় জামিনে ছাড়া পেলেন তিনি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল গ্রেপ্তারের পরদিন বিকেলে সন্দেহভাজন আসামি হাফিজুর রহমানকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হলে তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর তাঁকে ঢাকায় পিবিআইয়ের বিশেষ ইউনিটে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
আরও দুজনের ডিএনএ পরীক্ষার আদেশ পিবিআই জানায়, তনুর পরনের জব্দ জামা-কাপড়ের ডিএনএ রিপোর্ট পর্যালোচনায় একাধিক পুরুষের সম্পূর্ণ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন জানায় পিবিআই।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ জুলাই কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হক দুজনের ডিএনএ পরীক্ষার আদেশ দেন। ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি পাওয়া দুই সন্দেহভাজন হলেন, কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক সৈনিক জাহিদুল ইসলাম। তিনি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মেঘাই গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ছেলে। অপর ব্যক্তি ফয়সাল আহমেদ ওরফে রাব্বী। তিনি কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীনগর (রাজাপাড়া) গ্রামের এম এ মান্নানের ছেলে।
পিবিআই জানায়, গত ৮ জুন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তনু হত্যার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সন্দেহভাজন সার্জেন্ট (অব.) জাহিদুজ্জামান জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ ছাড়া আদালত তাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আদেশ দেন। তনু হত্যার সময় সার্জেন্ট জাহিদ কুমিল্লা সেনানিবাসে ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের গড়ঘাটা এলাকায়। সৈনিক শাহীন আলমের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। ঘটনার সময় তিনি সেনানিবাসের ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে সৈনিক পদে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে উভয়ে পলাতক। তবে তাদের অবস্থান সম্পর্কে পিবিআই নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত কর্মকর্তা পিপিআই ঢাকার পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম জানান, হাফিজুর রহমানের জামিনে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে জেনেছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুসারে সন্দেহভাজন অন্যদের আটক ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তবে মুক্তি পাওয়া হাফিজুরের ডিএনএ প্রোফাইল তনুর ডিএনএর সঙ্গে মিলেছে কিনা সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘হাফিজুর কারাগার থেকে বেরিয়ে গেছেন বলে শুনেছি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তাঁর জামিনে বের হওয়ার বিষয়টি তনু হত্যার বিচারে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। খবরটি জেনে হতাশ হয়ে পড়েছি। আমরা নিরীহ লোক। সরকারের কাছে ন্যায়বিচার চাই।’ ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরদিন সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন তনুর বাবা।