
X
ছবি: প্রতিনিধি
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) অদম্য জুলাই র্যালিতে বহিরাগতদের অংশগ্রহণের অভিযোগে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই দলের ২০/২৫ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। অতিরক্তি পুলিশ মোতায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যাক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের উদ্যোগে অদম্য জুলাই প্রোগ্রাম শেষে একটি মিছিল ভিসিগেট দিয়ে বের হয়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে আসলেই বহিরাগত আছে অভিযোগে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী শিবিরের বহিরাগত এক কর্মীকে মারধর করে।
এর পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনা শুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দু’পক্ষইকেই নিভৃত করার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে প্রক্টরিয়াল টিম ঐ শিবির কর্মীকে উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নেয়।
সংঘর্ষে আহত হয়ে শেরে বাংলা মেডিকিলে চিকিৎস্যাধীন রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি মনিরুল ইসলাম, সাব্বির হোসেন, আলামিন, হাফিজ সিদ্দিক, হেলাল আহমেদ, আবদুল্লাহি বাকি, আল মামুন সিয়াম, তায়েফ ও শারাফাত সিফাত। এছাড়াও আরো ৫-৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে শিবির সদস্যরা। অন্যদিকে হামলায় আহত হয়ে একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ছাত্রদলের ইমরান, সিফাত, হৃদয়, জাহিদ, তরিকুল, প্রান্ত, হেনা, আবদুর রহিম সহ আরও ৩-৪ জন।
শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম বাবু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করি। প্রথমে আমারা গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে ভিসি গেটে আসলে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা নগ্নভাবে আমাদের ওপরে হামলা করে। তাদের হামলায় আমাদের সভাপতিসহ ১৫ জনার মতো আহত হয়ে মেডিকেলে ভর্তি রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতে হামলা করা হয়েছে দাবী করে তিনি বলেন, প্রক্টর তাদের নিভৃত করার চেষ্টা করলেও ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা থামেনি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং বিচারের দাবি জানিয়ে এসেছি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ছাত্রশিবির বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রদল তাদেরকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করেছে। গুপ্ত সমকামী সন্ত্রাসী জঙ্গি সংগঠনের কোন স্থান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হবেনা। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণের এডিসি বেলাল হোসাইন বলেন, ছাত্রদল শিবিরের সংঘর্ষর ঘটনা ঘটেছিলো। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ এখন স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।