
X
ছবি : প্রতিনিধি
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় প্রায় দুই বছর আগে জব্দ করা দুই কোটি টাকার ৮৮ টন নিষিদ্ধ ব্রিফার জি-৫ (কার্বোফুরান) বালাইনাশক (কীটনাশক) একটি গুদামে সিলগালা করে রাখা হয়েছিল।
আদালতের নির্দেশে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান জব্দকৃত নিষিদ্ধ বালাইনাশক ধ্বংস করতে এসে গুদামে রাখা সেসব মালামাল উধাও হওয়ার ঘটনা দেখতে পান। ঘটনার ৮-৯ দিন পার হলেও সেসব মালামালের কোনো খোঁজ না মেলায় এলাকায় বিভিন্ন মহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর জানায়, ২০২৪ সালের ২৫ জুন দুপুরে বিসিক শিল্পনগরীর একটি গুদাম থেকে নিষিদ্ধ বালাইনাশক ব্রিফার ৫জি ট্রাকে করে যশোরে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় কৃষি বিভাগ, র্যাব-১৩, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে গুদামে থাকা ৮৮ টন নিষিদ্ধ বালাইনাশক জব্দ করে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। প্রশাসনের উপস্থিতিতে গুদামটি সিলগালা করে মালিক মনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কার্বোফুরান নামের এই বালাইনাশক মানুষ তো বটেই, বেশিরভাগ প্রাণীর জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। এ কারণে ২০১৬ সালে জাতিসংঘ এটি নিষিদ্ধ করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানায়। এরপর বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮৮টি দেশ বালাইনাশকটি নিষিদ্ধ করেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণের করা মামলাটি দুই বছর চলার পর আদালতের নির্দেশে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান জব্দকৃত নিষিদ্ধ বালাইনাশক ধ্বংস করতে এসে এ উধাও হওয়ার ঘটনা দেখতে পান।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও তাঁর সঙ্গে থাকা টিমের সদস্যরা গুদামের সিলগালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সব কার্টন ফাঁকা দেখতে পান। সেখানে মাত্র ১২৩টি প্যাকেট পাওয়া যায়। সেগুলোও ছেঁড়া-ফাটা ছিল। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেগুলো ধ্বংস না করে বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মশিউর রহমানের জিম্মায় রেখে চলে যান। এ ঘটনার পর এলাকায় বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে জব্দকৃত বালাইনাশকের মালিক মনোয়ার হোসেনের দাবি, গুদামের সিলগালা ভাঙার সময় প্রশাসনের লোকজন তাঁকে ডাকেননি। তিনি আগে থেকে এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। লোকমুখে শুনেছেন, তাঁর গুদাম থেকে জব্দ করা কীটনাশক উধাও হয়ে গেছে। অথচ মামলার পর থেকে তিনি কোনো দিন গুদামের আশপাশেও যাননি।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বালাইনাশক ধ্বংস অভিযানে গিয়েছিলাম। সেখানে সিলগালা ভেঙে গুদামের ভেতরে যে পরিমাণ মালামাল থাকার কথা ছিল, তা পাওয়া যায়নি। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেগুলো ধ্বংস না করেই ফিরে যান।
সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, তিনি প্রায়ই গুদামের গেটে থাকা সিলগালা পরীক্ষা করেছেন। বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় ছিল না যে, ভেতরের মালামাল চুরি হয়েছে। তাঁর দাবি, গুদামের ভেতরের দেয়ালের এক জায়গায় নতুন প্লাস্টারের চিহ্ন দেখা গেছে। হয়তো সেখান দিয়ে মালামাল সরানো হয়ে থাকতে পারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মামলার বাদী ধীমান ভূষণ বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসে সিলগালা ভেঙে ভেতরে মাত্র ১২৩টি কীটনাশকের প্যাকেট দেখতে পান। পরে তিনি ধ্বংস অভিযান পরিচালনা না করেই চলে যান। বাকি প্যাকেটগুলো কীভাবে চুরি বা উধাও হয়েছে, সে বিষয়ে আদালত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
জব্দকৃত বালাইনাশকের মালিক মনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, পুলিশের নিষেধ থাকায় তিনি বিসিক এলাকায় যাননি। তাঁর দাবি, আগের সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানো হয় এবং দুই কোটি টাকার মালামাল জব্দ দেখানো হয়। অথচ তাঁর সব কাগজপত্র বৈধ। সিলগালা করা গুদাম থেকে কীভাবে কীটনাশক চুরি হলো, তা তিনি জানেন না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে মালামাল উদ্ধার এবং প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জানান।
প্রয়োজনে এটি আমি সংবাদপত্রের প্রকাশযোগ্য ভাষা ও স্টাইল (প্রথম আলো/সমকাল/যুগান্তর/বাংলাদেশ প্রতিদিনের ধাঁচে) আরও পরিমার্জন করে দিতে পারি।