মসজিদ-কবরস্থানের প্রাচীর নির্মাণে অপপ্রচার করে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার অভিযোগ, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

ফেনী প্রতিনিধি

সারাবাংলা

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর মজলিসপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর কুঠিরহাটের (মাস্টারপাড়া) এলাকায় মসজিদ ও কবরস্থানের জমির উপর চলাচলের পথ নিয়ে

2026-08-08T15:58:10+00:00
2026-08-08T15:58:10+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
মসজিদ-কবরস্থানের প্রাচীর নির্মাণে অপপ্রচার করে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার অভিযোগ, এলাকাবাসীর ক্ষোভ
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৮ পিএম   (ভিজিট : ৮০)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর মজলিসপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর কুঠিরহাটের (মাস্টারপাড়া) এলাকায় মসজিদ ও কবরস্থানের  জমির উপর চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ‘হিন্দু সম্পত্তি দখল করে মসজিদ নির্মাণের’ অভিযোগ ওঠায় এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। 

তবে স্থানীয় বাসিন্দা, মসজিদ কমিটি ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগটি ভিত্তিহীন; ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হাজী মাষ্টার আবু বকর সিদ্দিক দীর্ঘ বছর পূর্বে তাঁর মালিকানাধীন জমির একটি অংশ মসজিদের জন্য দান করেন। ওই স্থানে জামে মসজিদ ও পারিবারিক কবরস্থান রয়েছে। পরবর্তী সময়ে মসজিদ ও কবরস্থানের আশপাশে একাধিক বসতবাড়ি গড়ে ওঠে। 

স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সিদ্দিক মাস্টারের পরিবারের জমির ওপর দিয়ে চলাচল করে আসছেন।

সম্প্রতি মসজিদ ও পারিবারিক কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর ও গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্দিক মাস্টারের ছেলে সিদ্দিক আল মামুনের বিরুদ্ধে হিন্দু সম্পত্তি দখল করে মসজিদ নির্মাণের অভিযোগ তোলা হয়। তবে অভিযোগে যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, তাঁদের দাবি, তাঁরা এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি এবং তাঁদের বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ও সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে আলোচনা হয়। এ সময় মসজিদ পরিচালনা কমিটি, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সমাজের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন দাবি করে প্রকৃত ঘটনা তদন্তের আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা বিবি রহিমা বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে অভিযোগ করা হলেও তিনি কোনো অভিযোগ করেননি। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সিদ্দিক আল মামুনদের জমি দিয়ে চলাচল করছেন এবং কখনো তাঁদের বাধা দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা নুর ফরিদ সোহেল বলেন ও আরিফ মিয়াজী বলেন, মোজাম্মেল হোসেন ও মো ইব্রাহিম অপেক্ষাকৃত কম দামে সিদ্দিক মাস্টারের জমির পেছনের অংশে জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণ করলেও জমি কেনার সময় নিজস্ব চলাচলের পথের ব্যবস্থা করেননি। পরবর্তীতে তাদের যাতায়াতের জন্য আপসে জায়গা না চেয়ে বরং বিভিন্ন অভিযোগ ও অপপ্রচারণার মাধ্যমে সিদ্দিক আল মামুন ও তাঁর পরিবারের সামাজিকভাবে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপ-চেষ্টা করেছে। 

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, মসজিদের জন্য জমি দানের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিনের জানা। বর্তমানে মসজিদ কমিটির তত্ত্বাবধানে সেখানে মসজিদ পরিচালিত হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, বিষয়টিকে ‘হিন্দু সম্পত্তি দখল’ হিসেবে প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। 

বিষ্ণুপুর সমাজের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম বলেন, কুঠিরহাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সিদ্দিক মাস্টারের পরিবারের জমির ওপর দিয়ে মানুষের চলাচল রয়েছে। এবং তার দেয়া সম্পত্তির উপর মসজিদ ও কবরস্থান নির্মিত হয়েছে এটি সর্বজন স্বীকৃত। মূলত কবরস্থানের উপর দিয়ে মোজাম্মেল তার ঘর বরাবর চলাচলের সুবিধা না পেয়ে এমন অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয় এমন কোনো প্রচারণা না চালানোর আহ্বান জানান তিনি।

চর মজলিসপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, হিন্দু সম্পত্তি দখল নিয়ে যেসব অভিযোগ এটি সত্য নয়, ব্যক্তির স্বার্থের জন্য কেউ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করবে এটি অপরাধ,  জমি কেনার সময় চলাচলের পথ নিশ্চিত করা ক্রেতার দায়িত্ব । চলাচলের পথ অবরুদ্ধের বিষয়টি সত্য নয়, যারা অভিযোগ করছে তারা অদ্যবদি একই রাস্তায় হাঁটছে। 

অভিযোগের বিষয়ে সিদ্দিক আল মামুন বলেন, তাঁদের জমি দিয়ে কাউকে চলাচলে কখনো বাধা দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। নিয়ম অনুযায়ী পেছনের জমি কেনার আগে চলাচলের পথ নির্ধারণ করা সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। তিনি আরো বলেন, তাদের জায়গার পিছনের বসবাসকারীরা বর্তমানে তাদের জায়গার উপর চার স্থানদিয়ে চলাফেরা করছে। 

ঐ সকল বসবাসকারিগন একস্থান দিয়ে জায়গায় ব্যবহার করুক সে ক্ষেত্রে এলাকাবাসী ও বসবাসকারীদের সাথে আলোচনাক্রমে চলাচলের জন্য স্থায়ী একটি পথের তৈরিতে তার এবং তার পরিবার উদ্যোগ নেব এবং তাদের চাওয়া, পেছনের জমির সকল মালিকদের জন্যও চলাচলের উপযুক্ত পথের ব্যবস্থা করা যাতে করে পরবর্তী মালিকদের যাতায়াতের অসুবিধে না হয়।






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy