
X
ছবি: প্রতিনিধি
পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কোমরপুর সীমান্ত বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি গরুসহ নিজেকে পাবনা জেলা যুবদলের নেতা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত আটটার দিকে স্থানীয়দের অভিযোগ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তি শরিফুল ইসলাম কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চর সাদীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ইসমাইল গুন্ডির ছেলে।
স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে পাবনা জেলা যুবদলের নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, কোমরপুর সীমান্ত বাজারে একটি দলীয় কার্যালয়ের নিচে চোরাই গরু রাখা হয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় কার্যালয়ের নিচে থাকা একটি গোপন কক্ষ থেকে দুটি গরু উদ্ধার করা হয় এবং শরিফুল ইসলামকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া গরু দুটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দলীয় কার্যালয়ের ব্যানার ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছিল। তাদের দাবি, কার্যালয়ের নিচে তৈরি করা একটি গোপন গোয়ালঘরে চোরাই গরু রাখা হতো। এছাড়া বিভিন্ন সময় চুরি হওয়া, সেলোমেশিন, সাব মার্সিবল, টিউবয়েল সহ নানা ধরনের মালামালও সেখানে রাখা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, শরিফুল ইসলাম ৫ আগষ্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতি, অর্থের বিনিময়ে সালিশ, জমি দখলসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। পাবনা শহরের নেতাদের প্রশ্রয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছিল। পাবনা জেলা জেলা যুবদল নেতাদের বিষয়টি অবগত করলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেন না।
এদিকে, আটক হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শরিফুল ইসলামের পাবনা জেলা যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তোলা বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেসব ছবিতে তাকে জেলা যুবদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়।
পাবনা জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মনির হোসাইন বলেন, “আমি তাকে চিনি। তিনি বিভিন্ন সময়ে কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তবে তিনি যুবদলের কোনো কমিটির সদস্য নন। কেউ দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “স্থানীয়দের অভিযোগ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুটি গরুসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। উদ্ধার হওয়া গরুর প্রকৃত মালিক শনাক্ত এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।