প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫০ পিএম (ভিজিট : ১৪)

X
ছবি: প্রতিনিধি
বর্ষার কাদাপানিতে আমন ধানের চারা রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করতে ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষ চলছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। আর হালচাষের সঙ্গে সঙ্গে কাদার নিচ থেকে বেরিয়ে আসছে টেংরা, পুঁটি, কই, শিং, মাগুর, শোল, টাকি, খলিশাসহ নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। এসব মাছ ধরতে মাঠে নেমে পড়ছেন শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ।
উপজেলার গাড়াগ্রাম, মাগুড়া ও রনচন্ডি ইউনিয়নের বিভিন্ন ধানি বিল ও নিচু জমিতে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। কারও হাতে খলাই-পলাই, কারও হাতে হাঁড়ি-পাতিল, বালতি বা প্লাস্টিকের গামলা। আবার কেউ ছোট জাল নিয়ে ট্রাক্টরের পেছনে ছুটছেন মাছ ধরতে। মাছ ধরার আনন্দে মুখর হয়ে উঠছে পুরো মাঠ।
রনচন্ডি ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামের ঢেকিয়ার দোলার মাঠেও দেখা যায় একই চিত্র। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি নারী ও বয়োবৃদ্ধরাও কাদাপানিতে নেমে মাছ ধরছেন। মাছ ধরতে আসা রাকিব, সুমন, ফৌজিয়া ও তারিকুল জানান, হালচাষ শুরু হলেই তারা দল বেঁধে মাঠে আসেন। কাদায় মাখামাখি হয়ে মাছ ধরার আনন্দই তাদের কাছে আলাদা।
স্থানীয় প্রবীণ আফছার আলী বলেন, হালচাষের পেছনে মাছ ধরার এই দৃশ্য গ্রামবাংলার বহু পুরোনো ঐতিহ্য। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা ও জলাশয় সংকোচনের কারণে এমন দৃশ্য আগের তুলনায় কমে গেলেও কিশোরগঞ্জে এখনো এই ঐতিহ্য টিকে আছে। দেশীয় মাছের আবাসস্থল রক্ষা ও খাল-বিল সংস্কারের মাধ্যমে এ ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম বলেন, বর্ষায় নিচু জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ আশ্রয় নেয়। হালচাষের সময় এসব মাছ কাদার নিচ থেকে ওপরে উঠে আসে। ফলে স্থানীয় মানুষ মাছ ধরার সুযোগ পান। এতে একদিকে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে মাছ বিক্রি করে অনেকে বাড়তি আয়ও করছেন।
সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জের বর্ষাকালের মাঠে হালচাষকে ঘিরে মাছ ধরার এই আয়োজন এখনো গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ও নির্মল আনন্দের স্মৃতি বহন করে চলেছে।