
X
সংগৃহীত ছবি
বেছে বেছে কাজ করার অভ্যাস অনেকেরই থাকে। এই অনেকের মধ্যে একজন তানজিকা আমিন। ২০০৪ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম রানারআপ হন। পর্দায় হাতেখড়ি হয় দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত ‘বকুল ফুলের মালা’ সিনেমা দিয়ে। তারপর থেকে কাজ করে চলেছেন। নাটক, সিনেমা, ওয়েব সিরিজÑ তিন মাধ্যমেই তার উপস্থিতি। তবে সেটা হাতে গোনা।
কিন্তু কেন? তানজিকা বলেন, ‘সহজ কথায় উত্তর দিলে, আমি অল্পতে তুষ্ট। অল্প কাজ করি, যেটি নিয়ে সন্তুষ্ট। হয়তো সুপারস্টার হইনি, অভিনেত্রী হয়েছি। অভিনয় ভালোবাসি। ভালো আছি, সুস্থ আছি, অভিনয় করছি। এই আমার জীবন।’
দুই দশকের বেশি ক্যারিয়ার। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত কাজ ২০২৩ সালের আশফাক নিপুনের ওয়েব সিরিজ ‘মহানগর ২’। এতে মিতু চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানজিকা, যা দর্শকের মনে দাগ কাটে আছে। এ নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, সাধারণ দর্শকের পাশাপাশি আমার কাছের মানুষরাও মিতু চরিত্রটির জন্য বেশ আপ্লুত। মিতু চরিত্রটি মানুষের মনে গেঁথে আছে। ভালো কাজ করার পর চাপ বেড়ে যায় শিল্পীদের। আমারও তাই হয়েছে।’
ভালো কাজের চাপ ভালোভাবেই সামলেছেন তানজিকা। ২০২৪ সালের সালজার রহমান পরিচালিত কালপুরুষ যার একটি। যার গল্পে দেখা যায়, অনেকদিন ধরে সংসার করছেন এক দম্পতি। যাদের কোনো সন্তান হয় না। এটা নিয়ে অসুখী জীবন তাদের। সিরিজটিতে তানজিকার চরিত্রের নাম নোভা। পরের বছর মানে ২০২৫ সালে মুক্তি পায় তার আরেকটি আলোচিত সিরিজ। নাম ‘বোহেমিয়ান ঘোড়া’। সিরিজটি পরিচালনা করেছেন অমিতাভ রেজা চৌধুরী। সিরিজে প্রথমবার হিজাব ও বোরকা পরে অভিনয় করেছিলেন এই লাক্স তারকা। যে গেটআপে আগে কখনও দেখা যায়নি তাকে।
গেল বছরের ডিসেম্বরে চার দিনের ব্যবধানে মুক্তি পায় তানজিকার আরও দুই ওয়েব সিনেমা। শরাফ আহমেদ জীবনের ‘ডিমলাইট’ ও রায়হান রাফীর ‘অমীমাংসিত’। ‘ডিমলাইট’-এ তানিয়া নামে এক গৃহিণীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানজিকা। আর ‘অমীমাংসিত’-তে অভিনয় করেছেন সাংবাদিক চরিত্রে। তানজিকা বলেন, ‘কাজগুলোর সুবাদে ওটিটিতে আমার একটু আলাদা ফ্যান-ফলোয়ার হয়েছে। এটি আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। নাটকের বাইরে নতুন দর্শক তৈরি হয়েছে। নিজেকে দেখানোর সুযোগ পাচ্ছি। নাটকে হয়তো সবসময় সেটা দেখানোর সুযোগ হয়ে ওঠেনি।’
বেছে বেছে কাজ করতে গিয়ে কিছু কাজ ফিরিয়ে দেওয়ার আফসোসও আছে তানজিকার। এর মধ্যে একটি তানিম নূর পরিচালিত সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। বিষয়টি নিয়ে এ অভিনেত্রীর কিছুটা আফসোসও হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমাকে যখন সিনেমাটির জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল, মনে হয়েছিল সিনেমাটি আমি না করলেও কারও কোনো ক্ষতি হবে না।
মুক্তির পর যতবার সিনেমাটি দেখছি, বারবার মনে হয়েছে, ইশ্ কী বড় মিসটাই না করলাম! এটি আমার জন্য সত্যিই দুঃখজনক ঘটনা।’ ২০১৩ সালেও প্রসেনজিতের বিপরীতে ওপার বাংলার একটি সিনেমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।