
X
সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৩ আগস্ট দেশে ফিরেছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। দেশে ফেরার খবর পেয়ে তাকে দেখতে একে একে ছুটে যাচ্ছেন দীর্ঘদিনের সহকর্মী, বন্ধু ও শুভাকাক্সক্ষীরা। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে আগের মতো স্বাভাবিক নেই বর্ষীয়ান এই অভিনেতার চলাফেরা। অনেক পরিচিত মানুষকে চিনতে পারছেন না, এমনকি কিছু বিষয় মনে রাখতেও তার সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠজনরা।
ইলিয়াস কাঞ্চনের বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সহ-সভাপতি লিটন এরশাদ। তিনি জানান, চিকিৎসার ধকলের কারণে অভিনেতার স্বাভাবিক চলাফেরায়ও পরিবর্তন এসেছে। লিটন এরশাদ বলেন, ‘ইলিয়াস কাঞ্চন ভাইয়ের চলাফেরার মধ্যে আর সেই স্বাভাবিক ব্যাপারটি নেই। অনেককে চেনেন, আবার অনেককেই চেনেন না। অনেক কিছুই মনে রাখতে পারেন না।’
ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে সাম্প্রতিক একটি অভিজ্ঞতার কথাও জানান লিটন। তিনি বলেন, একদিন তারা একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষ হওয়ার পরই ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। পরে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
লিটন এরশাদের ভাষ্য, দীর্ঘ চিকিৎসার অংশ হিসেবে নেওয়া কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির ধকলের কারণেই ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থায় এমন পরিবর্তন এসেছে। তিনি জানান, চিকিৎসার অংশ হিসেবে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি মিলিয়ে প্রায় ১০০টি থেরাপি নিতে হয়েছে ইলিয়াস কাঞ্চনকে। এত দীর্ঘ চিকিৎসার পর শরীরে এর প্রভাব পড়াটাই স্বাভাবিক। তবে এর মধ্যে একটি সুখবরও রয়েছে- চিকিৎসার ফলে তার শরীরে থাকা টিউমারের আকার অনেকটাই ছোট হয়ে এসেছে।
লিটন এরশাদ বলেন, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি শেষ হয়েছে। এখন ইলিয়াস কাঞ্চনের সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করাতে হবে। এসব পরীক্ষার ফলাফল দেখে পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জানা গেছে, গত বছরের শুরুর দিকে ইলিয়াস কাঞ্চনের শরীরে টিউমার শনাক্ত হয়। পরে পারিবারিক সিদ্ধান্তে গত ২৬ এপ্রিল তাকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে হারলি স্ট্রিট ক্লিনিকে তার চিকিৎসা শুরু হয়। প্রায় তিন মাস ধরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার পর লন্ডনের উইলিংটন হাসপাতালে অধ্যাপক ডিমিট্রিয়াসের নেতৃত্বে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেও এখনো পুরোপুরি চিকিৎসামুক্ত নন ইলিয়াস কাঞ্চন। পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আবারও লন্ডনে যাওয়ার কথা রয়েছে তার।
এদিকে দেশে ফেরার পর চিত্রনায়ক আলমগীর, অভিনেত্রী রোজিনা, শবনমসহ অনেকেই ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে দেখা করেছেন। প্রিয় অভিনেতার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন তার সহকর্মী ও ভক্তরা।
সময়ের সাথে সাথে নিজেকে চলচ্চিত্রের কিংবদন্তির পথেই নিয়ে এসেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। ৩৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তারমধ্যে বেশিরভাগ ছবিই ব্লকবাস্টার হিট ছিলো। আর ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া তার অভিনীত ‘বেদের মেয়ে জোছনা’র ব্যবসায়িক সাফল্য এখনো ঢাকাই ছবিতে রূপকথা হয়ে আছে। তোজাম্মেল হক বকুলের পরিচালনায় এই ছবিতে কাঞ্চন জুটি বেঁধেছিলেন অঞ্জু ঘোষের সাথে। সীমাহীন কষ্টের এক অসাধারণ প্রেমের গল্প বেদের মেয়ে জোছনা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বাধিক ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃত।
সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘বসুন্ধরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ইলিয়াস কাঞ্চনের। ১৯৭৭ সালের ২৬ মার্চ তিনি প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। একই বছর ৩১ ডিসেম্বর ছবিটি মুক্তি পায়। এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন ববিতা।
বাংলা চলচ্চিত্রের অনেক জনপ্রিয় গানের কথা মনে হলেও ভেসে উঠে ইলিয়াস কাঞ্চনের কথা। যার মধ্যে উল্লেখ করা যায়- ‘আমার গরুর গাড়ীতে বউ সাজিয়ে’, ‘কথা বলবো না , বলেছি’, ‘আজ রাত সারারাত জেগে থাকবো’, ‘সত্য কি? মিথ্যে কি’?’, ‘পৃথিবীর যত সুখ’ ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘তুই তো কাল চলে যাবি’, ‘তুমি চেনো কি আমারে’, ‘আমরা বাপবেটা ৪২০’, ‘আর যাবো না আমেরিকা’, ‘আমার মনের আকাশে আজ জ্বলে শুকতারা’, ‘বেলি ফুলের মালা দিয়ে’, ‘আমি আজ কথা দিলাম আই লাভ ইউ’, ‘ভালোবাসা যত বড় জীবন তত বড় নয়’, ‘আমার এ গান তোমারই জন্য’, ‘আমরা দুজন চিরসাথী’, ‘সবার জীবনে প্রেম আসে’ গানেরর নাম।