
X
খাগড়া কমিউনিটি ক্লিনিক
দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়া, ইট বেরিয়ে গেছে, ধসে পড়েছে নিচের অংশ। আবার ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার খাগড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটির অবস্থান এখন ভাড়া বাড়িতে।
অযত্ন আর অবহেলায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালানো সম্ভব না হওয়ায় প্রায় দেড় বছর ধরে স্থানীয় সেফাত হোসেন নামের এক ব্যক্তির ভাড়া বাড়িতে অস্থায়ীভাবে এভাবেই ক্লিনিকটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তাই স্থানীয়দের দাবি ভবনটি দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করে সেখানে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হোক। আর খুব দ্রতই পুননির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানালেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দেখা যায়, গ্রামের মানুষদের দৌড়গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য নির্মিত খাগড়া ক্লিনিক ভবনের দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল তৈরি হয়েছে। একটি অংশে দেয়াল ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভবনের ভেতরেও ভাঙা ইট ও নির্মাণসামগ্রীর ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ফলে ভবনটিতে কার্যক্রম চালানো ঝুঁকি হয়ে যায়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার খাগড়া এলাকায় অবস্থিত কমিউনিটি ক্লিনিকটি একসময় এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসাস্থল ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের অযত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে ভবনের দেয়ালে অসংখ্য ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পলেস্তারা উঠে গিয়ে মূল ইটের গাঁথুনি বেরিয়ে পড়েছে। ভবনের নিচের অংশও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ অবস্থায় প্রায় দেড় বছর ধরে স্থানীয় সেফাত হোসেন নামের এক ব্যক্তির ভাড়া বাড়িতে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা কার্যক্রম চলছে। এতে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দিতে হচ্ছে ভাড়া।
স্থানীয় সাগর, মোরশেদাসহ একাধিক বাসিন্দারা জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকটি এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরামর্শসহ বিভিন্ন সেবা নিতে দূরে যেতে হতো না। কিন্তু নিজস্ব ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী থাকায় ভাড়া বাড়িতে সেবা নিতে হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে অস্থায়ীভাবে সেবা কার্যক্রম চললেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। দ্রুত জরাজীর্ণ ভবনটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, কমিউনিটি ক্লিনিকের নিজস্ব ভবনটি দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করে সেখানে আবার নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হোক। এতে এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং সরকারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে।
ক্লিনিকটির দায়িত্বে থাকা কমিউনিটি হেলথ্ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) শহিদুল জানান, তিনি দেড় বছর থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। এটির কার্যক্রম ভাড়ায় চলছে, তবে ভাড়ার সম্পর্কে জানেননা তিনি।
ক্লিনিকটির কার্যক্রম ভাড়া বাড়িতে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা হেলথ্ এন্ড ফ্যামিলি প্ল্যানিং অফিসার (ইউএইচ এন্ড এফপিও) ডাঃ কে এইচ এম ইফতেখারুল আলম খান। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ওটা পুনর্নির্মাণের জন্য তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। আমাদের উপজেলায় এরকম ৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে, তার মধ্যে এক নাম্বারে আছে খাগড়া ওই ক্লিনিকটি। এই অর্থবছরেই পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হবে।