প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৪ পিএম (ভিজিট : ৯)

X
টেকনাফ সীমান্ত
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের নাকপুরা দ্বীপ এলাকায় সশস্ত্র দুই রোহিঙ্গা গ্রুপের মধ্যে রাতভর ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলার হ্নীলা সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে টানা গুলির শব্দ ও বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে নাকপুরা দ্বীপ এলাকায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যায়। এতে সীমান্তবর্তী জেলেপাড়া ও গুদামপাড়া এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকেই নিরাপত্তার কারণে ঘর থেকে বের হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, নাকপুরা দ্বীপের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারভিত্তিক রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) এবং আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-সমর্থিত একটি গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাসরিন পারভিন কবির বলেন, “মিয়ানমার সীমান্তে রাতভর গোলাগুলির ঘটনায় সীমান্ত এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কে ছিলেন। এ ধরনের ঘটনা ঘটায় সীমান্তঘেঁষা জেলেপাড়া ও গুদামপাড়ার বাসিন্দারা সবসময় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন”।
উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, “মিয়ানমারের নাকপুরা দ্বীপ এলাকায় গোলাগুলির খবর শুনেছি “নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে”।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা মো. কামাল বলেন, “নাফ নদীর ওপারে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপগুলোর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত না করাই ভালো”।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনীক চৌধুরী বলেন- উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর সব নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন গুলাগুলি বিষয়েন আরও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে”।