প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২১ পিএম আপডেট: ১৭.০৮.২০২৬ ১২:২৫ পিএম (ভিজিট : ২)

X
মাতারবাড়ী ও মহেশখালী অঞ্চলের এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে টানা ৫দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে শেরপুরে
মাতারবাড়ী ও মহেশখালী অঞ্চলের এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটির কারণে টানা ৫দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে শেরপুরে। এতে জেলার প্রায় ৪ হাজার আবাসিক ও ২২টি বাণিজ্যিক গ্রাহক চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। গ্যাসের অভাবে বন্ধ রয়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনও। ফলে রান্নাবান্নার পাশাপাশি পরিবহন চলাচলেও দেখা দিয়েছে সংকট।
গত ১২ আগস্ট বুধবার রাত ১০টা থেকে হঠাৎ শেরপুরে গ্যাসের চাপ শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। এরপর থেকে টানা ৫ দিন ধরে অনেক বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শহর এলাকার গৃহিণীরা।
শহরের গৃদানারায়ণপুর এলাকার গৃহিণী আখি আক্তার জানান, হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রান্নাবান্না নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছি । হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছি আবার মাঝে মধ্যে মাটির চুলা ও লাকড়ি দিয়ে রান্না করা হচ্ছে । আমার দাবি, অন্তত কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও গ্যাস সরবরাহ চালু করা হোক।
শহরেরর নয়আনী বাজার এলাকার গৃহিণী সুমাইয়া শিমু বলেন, টানা ৫দিন ধরে গ্যাস না থাকায় রান্না করতে পারছিনা। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতেও। শেরপুরের একমাত্র সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস না থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল প্রায় বন্ধের পথে। এতে বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। কোথাও কোথাও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
সিএনজি চালক চান মিয়া জানান, গ্যাস না থাকায় কয়েক দিন ধরে গাড়ি চালাতে পারছেন না। এতে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানাই।
তিতাস গ্যাসের শেরপুর জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মাসে প্রায় ২৭ থেকে ৩২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে গ্যাসের চাপ থাকে ২০ থেকে ২২ পিএসআই। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মাতারবাড়ী অঞ্চল থেকে শেরপুরে গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
শেরপুর জোনাল বিক্রয় অফিসের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. বদরুজ্জামান বলেন, জিটিসিএল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগতে পারে। তবে জিটিসিএল থেকে কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গ সরবরাহ শুরু হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে। বিকল্প জ্বালানির বাড়তি খরচ, রান্নাবান্নার দুর্ভোগ এবং পরিবহন সংকটে নাকাল হয়ে দ্রুত সমস্যা সমাধান করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।