প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৩, ৭:৩৩ পিএম আপডেট: ১০.১০.২০২৩ ৭:৫৭ পিএম (ভিজিট : ১৩১)

X
অতিমানবীয় কিছু না ঘটলে ইংল্যান্ডই জিতবে এই ম্যাচে- এটা ছিল জানা কথা। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে কতদূর যেতে পারে, সেটাই ছিল সবার দেখার বিষয়। জিততে না পারলেও টাইগার ব্যাটারদের কাছ থেকে ব্যাট হাতে ভালো পারফরম্যান্স আশা করেছিলো সবাই।
কিন্তু লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম আর তাওহিদ হৃদয়ছাড়া আর কারো ব্যাটই কথা বলতে পারেনি ইংলিশ বোলিংয়ের বিপক্ষে। যার ফলে ৪৮.২ ওভারে ২২৭ রানে অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ এবং ইংল্যান্ডের জয় ১৩৭ রানের বড় ব্যবধানে। বড় হারে পয়েন্ট টেবিলেও বড় ধাক্কা খেল সাকিবের দল। সেরা চার থেকে নেমে গেছে ছয়ে।
মঙ্গলবার হিমাচল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৬৪ রান করেছিল ইংল্যান্ড। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪০ রান করেন ওপেনার ডেভিড মালান। বাংলাদেশের হয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন মেহেদী।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে মার শুরু করলেন মালান, থামলেনই না। ২০১৪ সালে করা বিরাট কোহলির ইনিংস ছাড়িয়ে ধর্মশালায় ১৬ চার ও ৫ ছক্কায় ১০৭ বলে ১৪০ রান করে মাহেদী হাসানের বলে বোল্ড হন তিনি।

প্রথম উইকেটটা অবশ্য এনে দিয়েছিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনিও বোল্ডই করেছেন। ফ্লিক করতে গিয়ে সাকিবের স্লোয়ারে বোল্ড হন ৫৯ বলে ৫২ রান করে। হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনে নামা জো রুটও।

পরের গল্পটা শরিফুল ইসলামের। এমনিতে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জশ বাটলারকে ফিরিয়েছিলেন তিনি। পরে জাগিয়ে তোলেন হ্যাটট্রিক সম্ভাবনাও। টপ এজ হয়ে জো রুট ক্যাচ দেন মুশফিকুর রহিম, ততক্ষণে তিনি করেছেন ৬৮ বলে ৮২ রান। পরের বলেই লিয়াম লিভিংস্টোনকে গোল্ডেন ডাক উপহার দেন শরিফুল। হ্যাটট্রিকটা অবশ্য শেষ অবধি পূরণ করতে পারেননি তিনি।

বাংলাদেশের বোলাররা পরে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ায় দারুণভাবে। কিন্তু ততক্ষণে একটু বেশিই দেরি হয়ে গেছে। আদিল রশিদের ৭ বলে ১১ কিংবা ক্রিস উইকসের ১১ বলে ১৪ রানের ইনিংসে ইংল্যান্ডের রান সাড়ে তিনশ ছাড়িয়েও গেছে অনেকটুকু দূরে।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই হ্যাটট্রিক বাউন্ডারিতে রানের খাতা খোলেন লিটন। তবে পুরোপুরি ব্যর্থ হন আরেক ওপেনার তানজিদ তামিম। তরুণ এই ওপেনার কিছুতেই যেন ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙতে পারছেন না। দ্বিতীয় ওভারে রেইস টপলির অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে স্লিপে ক্যাচ দেন।

পরের বলেই ফিরেছেন তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। সর্বশেষ চার ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলা শান্ত এদিন গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
শুরুতেই দুই উইকেট হারানোর পর উইকেটে এসেছিলেন সাকিব। লম্বা পথ পাড়ি দিতে সাকিবের কাঁধে অনেক দায়িত্ব ছিল। তবে ধর্মশালায় ব্যর্থ হন বাংলাদেশ অধিনায়কও। ষষ্ঠ ওভারের চতুর্থ বলটি ব্যাক অফ ল্যান্থ ডেলিভারি ছিল টপলির। সেখানে লাইন মিস করে বোল্ড হয়েছেন সাকিব (১)। টাইগার কাপ্তানের পর দ্রুত বিদায় নেন আগের ম্যাচের নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ওকসের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৭ বলে ৮ রান।

৫০ রানের আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা চালান লিটন-মুশফিক। ৭৫ বলে ৭২ রানের জুটি গড়েন এ দুই ব্যাটার। এরপরে ক্রিস ওকসের অফ কাটারের ফাঁদে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন লিটন। তিনি ৬৬ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলে সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন।
তখনও বাংলাদেশের জয়ের কিছুটা আশা ছিল। কিন্তু দলীয় ১৬৪ রানে মুশফিক আউট হলে সে আশা ক্ষীণ হয়ে আসতে থাকে। বাংলাদেশি উইকেটরক্ষক ফিরেছেন টপলির বলেই।

ডিপ থার্ডে থাকা আদিল রশিদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৬৪ বলে ৫১ রান করেছেন তিনি। মুশফিকের পরে তাওহীদ হৃদয় (৬১ বলে ৩৯ রান) ও শেখ মেহেদী (৩২ বলে ১৪ রান) আউট হলে জয়ের সম্ভাবনা প্রায়ই কমে আসে।

শেষ দিকে তাসকিন (২৫ বলে ১৫ রান), শরিফুল (১৪ বলে ১২ রান) এবং মুস্তাফিজ (৯ বলে অপরাজিত ৩ রান) প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও কাজের কাজ হয়নি। ৪৮.২ ওভারে ২২৭ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
বাবু/এমএ