প্রকাশ: শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৩, ৭:২৭ পিএম আপডেট: ০৩.১১.২০২৩ ১:২৫ এএম (ভিজিট : ১৫৩)

X
শেষ ওভারে নিউজিল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। মিচেল স্টার্কের প্রথম বলে সিঙ্গেল রানের পর, দ্বিতীয় ডেলিভারিতে ওয়াইড ও চার মিলিয়ে জয়ের স্বপ্ন চাঙা হয় কিউইদের। পরপর দুই বলে নিশামের দুটি শটই ছিল চারের বাউন্ডারি পাওয়ার মতো। অজি ফিল্ডাররা দু’দফায় সেখানে দুটি করে রান ঠেকিয়েছেন। শেষ তিন বলে ৩ রান নিতেই এক উইকেট হারানোয় আর বিশ্বরেকর্ড গড়া হয়নি টম ল্যাথামের দলের।
জয় থেকে ৫ কদম দূরত্বে নিউজিল্যান্ড থেমেছে ৩৮৩ রানে। ধর্মশালায় এদিন অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড মিলে তোলে ৭৭১ রান। যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। চলতি আসরেই দিল্লিতে বিশ্বকাপ সর্বোচ্চ ৭৫৪ তুলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা-শ্রীলঙ্কা। তাদের সেই রেকর্ড কামিন্স-রবীন্দ্ররা ছাড়িয়ে গেছেন।
বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে থাকেন দুই কিউই ওপেনার ডেভন কনওয়ে ও উইল ইয়ং। ওপেনিং জুটিতে ৬১ রান করেন তারা।
১৭ বলে ২৮ রান করে আউট হয়ে যান কনওয়ে। এরপর ১১ রান তুলতে গিয়ে দ্বিতীয় উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। এবার পেসার হ্যাজলউডের বলে স্টার্কের হাতে ক্যাচ হয়ে ফেরেন ইয়ং (৩৭ বলে ৩২)। তবু দুরন্ত গতিতে এগিয়ে যায় কিউইদের স্কোরবোর্ড।
এরপর দলের হাল ধরেন ডেরেইল মিচেল ও রাচিন রাবিন্দ্রা। তৃতীয় উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটার সংগ্রহ করেন ৮৬ বলে ৯৬ রান। মিচেল তুলে নেন দুর্দান্ত ফিফটি। তবে ফিফটি করার পর ইনিংস বড় করতে পারেননি ডানহাতি এই ব্যাটার। ৫১ বলে ৫৪ রান করে সাজঘরে ফেরত যান তিনি। এডাম জাম্পার বলে স্টার্কের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে ঝড় তুলেছিলো অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা। শেষে ঝড় তুললেন নিউজিল্যান্ডের বোলাররা। ৬ উইকেটে ৩৮৭ রান থেকে ৩৮৮ রানেই অলআউট হয়ে গেলো অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা। মাত্র ১ রানের ব্যবধানে পড়লো ৪ উইকেট।
ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন মাঠে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে ওয়ার্নার এবং ট্রাভিস হেডের ব্যাটে রীতিমত টর্নেডো বইয়ে দিয়েছিলো অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কিউই বোলারদের আগুনে বোলিংয়ের সামনে ৪৯.২ ওভারে ৩৮৮ রানে অলআউট হয়েছে প্যাট কামিন্সের দল।
টস জিতে বোলিংয়ে কিছুটা সুবিধা আদায় করা যাবে, এ চিন্তা থেকে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো নিউজিল্যান্ড। ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন দুই অসি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার এবং ট্রাভিস হেড। দু’জন মিলে ১৭৫ রানের বিশাল জুটি গড়েন ১৯.১ ওভারে।
৬৫ বলে ৮১ রান করে আউট হন ডেভিড ওয়ার্নার। ট্রাভিস হেড শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি পূরণ করেন ৬০ বলে এবং ৬৭ বলে ১০৯ রান করে আউট হন তিনি। ১০টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৭টি ছক্কার মার মারেন তিনি।
ট্রাভিস হেড এবং ওয়ার্নারের জুটিই অস্ট্রেলিয়াকে বড় ইনিংস গড়তে সাহায্য করে। পরের ব্যাটাররা খুব বড় কোনো স্কোর গড়তে পারেননি। মিচেল মার্শ ৫১ বলে করেন ৩৬ রান। স্টিভ স্মিথ ১৭ বলে ১৮ রান সংগ্রহ করেন। মার্নাস লাবুশেন ১৮ রান করেন। ২৪ বলে ৪১ রান করেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ২৮ বলে ৩৮ রান করেন জস ইংলিস। ১৪ বলে ৩৭ রান করেন প্যাট কামিন্স।
৩টি করে উইকেট নেন ট্রেন্ট বোল্ট এবং গ্লেন ফিলিপস। ২ উইকেট নেন মিচেল সান্তনার। ১টি করে উইকেট নেন ম্যাট হেনরি এবং জিমি নিশাম।