যানজটে নাকাল ঢাকা যেন এখন ‘আন্দোলনের শহর’

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অব্যাহত চাপের মুখে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যখন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারসহ সরকার পরিচালনায় হিমশিম

2025-02-02T18:24:48+00:00
2025-02-02T18:35:02+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
যানজটে নাকাল ঢাকা যেন এখন ‘আন্দোলনের শহর’
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৬:২৪ পিএম  আপডেট: ০২.০২.২০২৫ ৬:৩৫ পিএম  (ভিজিট : ৪১৮)
X

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অব্যাহত চাপের মুখে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যখন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারসহ সরকার পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে, এর মধ্যেই রাজপথে নামেন চাকরিপ্রত্যাশী, সাত কলেজসহ তিতুমীর শিক্ষার্থীরা। তাদের বহুমুখী দাবিতে আন্দোলন যেন সরকারের জন্য গলায় ফাঁসের অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

এসব আন্দোলন শুধু সরকারের জন্যই অস্বস্তিকর নয়, পুরো রাজধানীবাসীর জন্য নিত্যদিনের সীমাহীন দুর্ভোগেরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাবি-দাওয়া নিয়ে সচিবালয়-কার্যালয়কে ঘিরেই প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন আন্দোলনের। এমনকি এসব বিক্ষোভ-প্রতিবাদ কর্মসূচি ঠেকাচ্ছেও না অন্তর্বর্তী সরকার। এতে করে সৃষ্ট যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভুগতে হচ্ছে নগরবাসীকে। লাখো মানুষ অফিস শেষে পায়ে হেঁটে বাসায় ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।

রোববারসকালে সরকারি তিতুমীর কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এর পর বেলা ১১টার দিকে কলেজটির সামনের রাস্তা আটকে দেন শিক্ষার্থীরা। ফলে মহাখালী থেকে গুলশান পর্যন্ত রাস্তার যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে হঠাৎ করে রাস্তা বন্ধ করার পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যাত্রীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হলেও তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাস্তা ছাড়বেন না বলে ঘোষণা দেন।
দুপুরের দিকে বিশ্ব ইজতেমার কথা চিন্তা করে ‘ব্লকেড টু নর্থ সিটি’ নামের পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচি শিথিল করেন আন্দোলন করা তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। এদিকে জুলাই আন্দোলনে আহতদের পুনর্বাসন, ক্যাটাগরি পদ্ধতি বাতিলসহ দ্রুত সময়ের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে রোববার সকালে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত বেশ কয়েকজন। 

এর কিছুক্ষণ পরই আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবন, ২৫০ শয্যার টিবি হাসপাতাল ও জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সামনের সড়কে অবস্থান নেন আহতরা। এসব এলাকা দিয়ে যানবাহন যেতে দেওয়া হয়নি। শুধু রোগী বা অ্যাম্বুলেন্স দেখে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় এই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, দেখা দেয় তীব্র যানজট।

দুপুরের দিকে শিশুমেলার সামনে মিরপুর-ধানমন্ডি সড়কও অবরোধ করেন গণঅভ্যুত্থানে আহতরা। ফলে সড়কটির সবদিকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা। অপরদিকে দুপুর ১২টার পর থেকে রাজধানীর হাইকোর্ট মাজার চত্বরে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাকরি হারানো পুলিশ ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।

জানা গেছে, শুধু একদিনেই ৬/৭টি আন্দোলন কর্মসূচি ছিল। এছাড়া গত তিন দিনে ঢাকায় অন্তত এমন প্রায় ২০টি বিক্ষোভ, মানববন্ধন, ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়।
রাজধানীতে নানামুখী আন্দোলনের কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। এমনকি লাগামহীন এসব আন্দোলনের ফলে বেচাকেনাও বন্ধ হয়ে যায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। এ অবস্থায় আইন করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে এক পথচারী বলেন, শাহবাগ যাব বলে মিরপুর থেকে বাসে উঠেছি। আগারগাঁও পর্যন্ত এসে দেখি রাস্তা বন্ধ। দুই দিন পরপর এখানে কোনো না কোনো আন্দোলন হয়। এর আগেও শিক্ষকরা আন্দোলন করেছে, শুনেছি তিতুমীরের শিক্ষার্থীরও আন্দোলন করছে। ঢাকা শহর এখন আন্দোলন আর দাবি আদায়ের শহর হয়ে গেছে।

শুধু যাত্রীরাই নয়, ভোগান্তিতে পড়েছেন গণপরিবহনে চালক ও সহকারীরাও। রজনীগন্ধা পরিবহনের চালক ফজল মিয়া বলেন, রাস্তা বন্ধ দেখে যাত্রীরা নেমে গেছে। কিন্তু আমাদের তো যাওয়ার উপায় নাই। সকাল থেকে বাস নিয়ে এখানে বসে আছি। আর কতক্ষণ থাকতে হবে আল্লাহ জানেন।





Loading...
Loading...


রাজধানী এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy