
X
বাংলাদেশ টেক্সটাইলস মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএম) এর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেছেন, দেশের টেক্সটাইল মিলসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহে খুবই সংকট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা পরিস্থিতিতে সমস্যা ধীরে ধীরে আরো প্রকট হচ্ছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শিল্প উদ্যোক্তা এবং রফতানিকারকরা।
তিনি আরো বলেন, এক থেকে দেড় মাস ধরে চলা প্রকট গ্যাস সংকটে দেশের রপ্তানিনির্ভর ও স্থানীয় টেক্সটাইল মিল এবং পোশাক খাতসহ অনেক খাতের কারখানা/মিলের উৎপাদন আংশিক অথবা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।
রবিবার (২৫ মে) রাজধানীর গুলশান ক্লাবে বিটিএমএ আয়োজিত শিল্পখাতে জ্বালানি সংকট নিয়ে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিটিএমএ'র সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।
তিনি আরো বলেন, গ্যাসের অভাবে পোশাক কারখানাগুলো উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারায় চলমান কার্যাদেশ অনুযায়ী যথাসময়ে পণ্য সরবরাহের জন্য বাধ্য হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে বিমান পথে অতিরিক্ত খরচে পণ্য সরবরাহ করতে হচ্ছে। এতে পোশাক কারখানাগুলোকে বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
বিটিএমএ সভাপতি আরো বলেন, টেক্সটাইল মিল এবং পোশাক কারখানাসহ অন্যান্য খাত গুলোতে গ্যাসের সংকট দীর্ঘদিনের। একইসঙ্গে বিদ্যুতের লোডশেডিং সকল মাত্রা অতিক্রম করে গেছে। গ্যাসের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহের আশ্বাসে গত কয়েক বছরে দফায় দফায় ৩০০% এর অধিক মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। সেই সঙ্গে মিল মালিকদের সিকিউরিটি বাবদ অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হয়। শিল্পে নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাসের সরবরাহের নামে মূল্য বৃদ্ধি করা হলেও বাস্তবে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি।
উক্ত সম্মেলনে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিসিআই, আইসিসিবি, এলএফএমইএবি, বিটিটিএলএমইএ, বিপিজিএমইএ সহ বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন,গ্যাস ও বিদ্যুতের ক্রমাগত অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের সঙ্কট, ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক, রপ্তানির বিপরীতে নগদ প্রণোদনার অস্বাভাবিক হ্রাস এবং টাকার অবমূল্যায়ন, ওয়ার্কিং ক্যাপিটালে সঙ্কটে দেশের অর্থনীতিতে রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকা শক্তি টেক্সটাইল সেক্টরসহ বিভিন্ন শিল্পখাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে আসছে। তাদের বক্তব্যে তিতাস গ্যাসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের অনৈতিক ও অসদাচরণের বর্ণনা তুলে ধরেন। এছাড়া তারা বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি সেই আগের মতই আছে। চাঁদাবাজির কোনো পরিবর্তন হয়নি। ব্যবসায়ীরা সবসময় একটা আতঙ্কে থাকে ।
সবশেষে সঙ্কটাপন্ন পরিস্থিতি উত্তরণে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকদের কাছে তিনটি প্রস্তাব/দাবি তুলে ধরেন শিল্প খাতের ব্যবসায়ীরা। প্রথমত, দেশের স্বার্থে অনতিবিলম্বে দেশীয় টেক্সটাইল খাতসহ সকল শিল্প খাতের ন্যায্য স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে অবিলম্বে জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিল্প খাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, শিল্প খাত ও ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোয় গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত করা এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে একটি প্রতিযোগিতাশীল ও টেকসই মূল্য নির্ধারণ নীতি মালা প্রণয়ন।
তৃতীয়ত, শিল্প খাতে বিরাজমান গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য মধ্য - দীর্ঘ মেয়াদি কৌশল ও পরিকল্পনা প্রণয়ন।