‘ছাত্রলীগ পরিচয়ে নির্যাতনের অংশীদার হতেন শিবিরের নেতাকর্মীরা’

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনীতি

ছাত্রলীগ পরিচয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অংশীদার হতেন এমন ‘ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের’ পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন গণতান্ত্রিক

2025-08-04T15:38:50+00:00
2025-08-04T16:11:46+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
আবদুল কাদেরের অভিযোগ
‘ছাত্রলীগ পরিচয়ে নির্যাতনের অংশীদার হতেন শিবিরের নেতাকর্মীরা’
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫, ৩:৩৮ পিএম  আপডেট: ০৪.০৮.২০২৫ ৪:১১ পিএম  (ভিজিট : ৪৪৭)
X

ছাত্রলীগ পরিচয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অংশীদার হতেন এমন ‘ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের’ পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের।

এক ফেসবুক পোস্টে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন আবদুল কাদের।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘হলে থাকার কারণে শিবিরের যে ছেলেগুলা সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগ করতো, তারা মূলত আইডেন্টেটি ক্রাইসিস থেকে উৎরানোর জন্য কিছু ক্ষেত্রে অতি উৎসাহী কর্মকাণ্ডে জড়াতো। সেটা কেবল নিজেকে লীগার প্রমাণের দায় থেকে। লীগ যে নিপীড়ন-নির্যাতন চালাতো তারা সেগুলার অংশীদার হতো, লীগের কালচার-ই চর্চা করতো। আমার এই কথাটা অস্বীকার করার সুযোগ নাই, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি তো এমন ছিল।’

তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালের ২২ জানুয়ারি রাতে বিজয় একাত্তর হলের শাহরিয়াদ নামে ১৯-২০ সেশনের একজন শিক্ষার্থীকে রাতভর মারধর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সেখানে নেতৃত্বে ছিলেন মাজেদুর রহমান নামে একজন। যিনি আমার পাশের এলাকার। একই মাদ্রাসায় পড়ার সুবাদে জানতাম, তিনি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ক্যাম্পাসে এসে বনে গেলেন ভয়ঙ্কর নিপীড়ক, নির্যাতক!’

আবদুল কাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সর্বশেষ কমিটির দপ্তর সম্পাদক ১৭-১৮ সেশনের মুসাদ্দিক বিল্লাহ, আমার জেলার। যার পরিবার জামায়াত, যিনি শিবিরের সাথী ছিলেন; কিন্তু পদের জন্য তিনি হয়ে গেলেন কট্টর ছাত্রলীগ। ইতোপূর্বে কোনও কমিটিতে না থেকেও তিনি সরাসরি ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক পদ ভাগিয়ে নেন। তাহলে চিন্তা করেন, তাকে কতটা বিশ্বস্ততার পরিচয় দিতে হয়েছে, কতটা ছাত্রলীগের চরিত্র ধারণ করতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জসীমউদ্দিন হলের ১৬-১৭ সেশনের আফজালুন নাঈম। গেস্টরুমে তার দুর্ব্যবহার, নিপীড়নের জ্বালায় হলের ছেলেরা অতিষ্ঠ ছিল। নাঈমের দুর্ব্যবহারের কথা হলের ছেলেদের মুখে মুখে। অথচ এই নাঈম এখন জামায়াত শিবিরের আইকন শিশির মুনিরের বিশেষ সহকারী! মুজিব হলের জুনিয়রদের কাছে আরেক এক ত্রাসের নাম ছিল ১৬-১৭ সেশনের ইলিয়াস হোসাইন। সঞ্জিতের রাজনীতি করতো ইলিয়াস, হল ক্যান্ডিডেট ছিল। মিছিল মিটিংয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ফোর্স করতো, গেস্টরুমে অসহ্যকর মেন্টাল টর্চার করতো, ছাত্রলীগের পদও পেয়েছিল। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এই ইলিয়াস শিবিরের বড় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হলো, চলাফেরা করেন এখন শিবিরের ইমামদের সাথে!’

গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ঢাবি শাখার আহ্বায়ক বলেন, ‘২০১৭ সালে হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলে ইসলামিক পেজে লাইক দেওয়ায় শিবির সন্দেহে পাঁচ শিক্ষার্থীকে রাতভর ভয়াবহ নির্যাতনের মাধ্যমে রক্তাক্ত করে হল ছাড়া করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মুহসীন হলের সাবেক ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন ওরফে সোহেল ভুক্তভোগীর মোবাইল চ্যাক করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে অতর্কিত হামলা চালান। এই শাহাদাত আবার শিবির হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত ছিল। চব্বিশ সালের সেপ্টেম্বরে এই মামলা হওয়ার পরে শাহাদাতকে নিয়ে একজন পোস্ট করেন। পরবর্তী সময়ে ওই পোস্টকারীর সঙ্গে শিবিরের তৎকালীন সভাপতি সাদিক কায়েম যোগাযোগ করেন। শাহাদাৎ ভালো মানুষ, তাকে যেন এসবের সঙ্গে না জড়ায়।’

তিনি বলেন, ‘শিবিরের স্ট্রাটেজির জায়গা থেকে ওরা ছাত্রলীগের বড় পদে নিতো। হল ক্যান্ডিডেট, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্ডিডেট হওয়ার কারণে তাকে ছাত্রলীগ যে স্টাইলে কার্যক্রম পরিচালনা করে, ঠিক সেই স্টাইল ফলো করা লাগতো। শিক্ষার্থীদের গণরুম, গেস্টরুম, জোরপূর্বক মিছিল মিটিংয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার কাজটা একিনের সঙ্গে করতেন তারা। উদ্দেশ্য একটাই পদ পাইতেই হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা একজন হলো, জহুরুল হক হলের ২১-২২ সেশনের হাসানুল বান্না, যিনি ৫ আগস্টের পরে শিবিরের সদস্য সম্মলনে গিয়ে নিজেকে সদস্য হিসেবে প্রকাশ করেন। আবার এই বান্না এখন শিবিরের জহু হল শাখার বড় নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।’

আবদুল কাদের বলেন, ‘আরেকজন আছেন এমন। এফ রহমান হলের ১৮-১৯ সেশনের রায়হান উদ্দিন। যে ছাত্রলীগের একটিভ কর্মী ছিলেন। মেধাবী হওয়ার দরুন হল ক্যান্ডিডেটের বক্তব্যগুলা যিনি নিজে লিখে দিতেন, সারাক্ষণ ক্যান্ডিডেটের আগেপিছে থাকতেন, কাউকে ভিড়তে দিতেন না। এফ রহমানের হলের কুখ্যাত ছাত্রলীগ সভাপতি রিয়াজের একনিষ্ঠ অনুসারী এই রায়হান ৫ তারিখের পরে শিবিরের বড় নেতা হিসেবে হাজির হয়েছেন। আগের ফেসবুক আইডি বাদ দিয়ে এখন নতুন আইডি চালান।’ 

আবদুল কাদের আরও লেখেন, ‘৫ তারিখের পরে শিবিরের যেসব ছেলে ছাত্রলীগের ভেতরে থেকে ছাত্রলীগের মতো আচরণ করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে সাদিক কায়েমের সঙ্গে আমার আলাপ হয়। ৫ তারিখের পরে হলে হলে ছাত্রলীগের নিপীড়কদের তালিকা হচ্ছিল। একদিন ফোনে এই বিষয়ে কথা বলার পরিপ্রেক্ষিতে সাদিক ভাইকে জিজ্ঞাসা করলাম, একাত্তর হলের হাসান সাঈদী, এফ রহমানের তানভীর হাসান শান্তর মতো শিবিরের যারা লীগের আমলে অপকর্ম করেছে, তাদের মামলা দেবেন না? প্রতিউত্তরে উনি বললেন, তোমরা দাও। আমি বললাম, আমরা আর তোমরা দেওয়ার কী আছে! লিস্ট তো আমরা-আপনারা মিলেই করছি। এ বিষয়ে সাদিক ভাইয়ের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়; কিন্তু শেষে আর হাসান সাঈদী কিংবা শান্তদের নাম মামলার তালিকায় উঠলো না!’

‘এই সাঈদী ছিল শিবিরের সাথি। পরে একাত্তর হল ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। এমন কোনও অপকর্ম নেই যে সে করেনি। ও একাত্তর হলের কুখ্যাত সন্ত্রাসী আবু ইউনুসের রাজনীতি করতো। শিবিরসংশ্লিষ্টতার কারণে তারে পোস্ট-পদবি দেয়নি দীর্ঘদিন। সে হতাশায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। নিজেকে লীগার প্রমাণ করার জন্য সে আরও উগ্রপন্থা বেছে নিলো। একে তো শিবিরসংশ্লিষ্টতা, তার ওপর নিজের নাম সাঈদী হওয়ার কারণে পদ-পদবী পাচ্ছে না, সে জন্য কাগজপত্রে নাম পরিবর্তন করে সাঈদ বানিয়েছেন তিনি! অবশেষে সে হীন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, একাত্তর হল ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক হয়। তারপর সৈকতের রাজনীতি করা শুরু করে, হল ক্যান্ডিডেট ছিল।’





Loading...
Loading...


রাজনীতি এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy