
X
রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও ওয়াকিটকি সেটসহ দুই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. রবিউল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম শান্ত।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান।
র্যাবের ডিজি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি হাজারীবাগ থানাধীন বারৈইখালী বাজার এলাকার একটি বাড়িতে কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছে। পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শহিদুর রহমান বলেন, তাদের তথ্য মতে ওই বাড়ির ৫ম তলার উত্তর পাশের ফ্ল্যাটের এক কক্ষের তোষকের নিচ থেকে ১টি শর্টগান, ২টি এয়ারগান, ২টি বিদেশি পিস্তল, ৪টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ২০টি খালি খোসা, ১৮০টি ইয়ারবল, ২৫০টি ইয়ার প্লেট, ১টি ক্লিনিং কিটসহ ব্যাগ, ২টি ওয়াকিটকি সেট, ১টি চাপাতি, ১টি সামুরাই ও ২টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছিল।এছাড়া তারা কেন্দ্রীয় যুবলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী সরোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও হাজারীবাগ এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছিল।
র্যাব জানায়, প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীতে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
র্যাব ডিজি একেএম শহিদুর রহমান আরও জানান, পুলিশের লুট হওয়া প্রায় ১ হাজার ৩৫৭টি অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। তবে ইতোমধ্যে ৭০-৮০ শতাংশ উদ্ধার হয়েছে। গত মাসেও তিনটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি বাকি অস্ত্রগুলোও উদ্ধার করতে সক্ষম হবো।’
এসব অস্ত্র বাইরে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘লুট হওয়া অস্ত্র বিভিন্ন শ্রেণির অপরাধীর কাছে থাকতে পারে। এসব অস্ত্র যতদিন বাইরে থাকবে, ততদিন বিষয়টি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। আমরা আশা করি জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হবে।’
পাহাড়ে অশান্ত পরিস্থিতি
পাহাড়ে সাম্প্রতিক অশান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। যদিও দ্রুত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তারপরও পরিস্থিতিকে বড় আকার দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এর পেছনে ইন্ধন আছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। বিদেশি কোনও অপশক্তির সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
র্যাব ডিজি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে র্যাবের বিশেষ প্রস্তুতি চলছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার অব্যাহত আছে। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে র্যাব সদস্যদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচনকালীন চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে র্যাব ডিজি বলেন, ‘প্রতিদিনই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ থাকে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আমরা নিরলস চেষ্টা চালাচ্ছি। গাজীপুরে র্যাব সদস্যদের আটকে রাখার ঘটনায় মামলা হয়েছে, আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করবে না। আমরা আশাবাদী, যেকোনও পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবো।’
তিনি বলেন, এই মাসে আমরা ৭৬টি অস্ত্র উদ্ধার করেছি এবং ২৮ জন অস্ত্র মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। চলতি বছর অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমরা বিগত ১ বছরে ৩২১টি অস্ত্র উদ্ধার করি এবং এই সংক্রান্তে ২০৪ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়। হত্যা মামলার প্রায় ১ হাজার ৮৭২ জন আসামি আমরা গ্রেপ্তার করি। ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের ৬ হাজার ৬৬৭ জন, ডাকাত চক্রের সদস্য ৪৪৩ জন, মানব পাচারকারী ৭৩ জন এবং অন্যান্যসহ মোট ৯ হাজার ৫৫৯ জন আসামিকে আমরা গ্রেপ্তার করি।
একেএম শহিদুর রহমান আরও বলেন, ‘এ ছাড়াও বিভিন্ন মাদকসহ আমরা প্রায় ৩ হাজার ৪১৮ জনকে এই এক বছরে গ্রেফতার করেছি। ফেন্সিডিল উদ্ধার হয়েছে ৫৪ হাজার ৪৫৫ বোতল, গাঁজা প্রায় ১৪ টনের মতো, ইয়াবা উদ্ধার করেছি ৬২ লাখ ৭০ হাজারের পিসের মতো। আমাদের উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত আছে এবং আশা করি এই অভিযানের ধারা অব্যাহত থাকবে।