
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে কম শুল্কে একাধিক সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন করায় বছরে প্রায় ৪২০ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব হবে। পূর্বের উচ্চমূল্যের চুক্তি বাতিল করে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে পুনঃদরপত্র আহ্বান করায় সরকার এই সুবিধা পেয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ১২টি সৌর প্রকল্পে আগের তুলনায় প্রতি ইউনিটে দুই থেকে তিন সেন্ট কম দরে বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে, তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার এখন সময়ের দাবি।
উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, সৌর খাতে পূর্বের অনিয়মে সুবিধাভোগী একটি মহল উন্মুক্ত দরপত্রকে বাঁধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা বহু সৌর প্যানেল মাঠপর্যায়ে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। তার অভিযোগ, আগের দুর্নীতিবাজ মহল দরদাতাদের নিরুৎসাহিত করতে চাপে রাখছে, যার ফলে কয়েকটি সংস্থায় পর্যাপ্ত দরপত্র পাওয়া যায়নি।
রুফটপ সোলার প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে দরপত্র জমা পড়লেও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে (আরইবি) কোনো দরপত্র জমা পড়েনি। মাঠপর্যায়ে অংশগ্রহণ ঠেকাতে অতিরিক্ত শর্ত, যেমন বাধ্যতামূলক ট্রান্সফরমার স্থাপনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রযাত্রায় বাধাদানকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আরইবি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ফাওজুল কবির খান বলেন, বাংলাদেশ একটি দুর্নীতিগ্রস্ত পদ্ধতি থেকে সুশাসনভিত্তিক প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে। এই পরিবর্তনের পথে যেকোনো বাধা দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করা হবে। দেশের আর্থিক সক্ষমতার কথা বিবেচনায় রেখে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণই ভবিষ্যতের একমাত্র টেকসই পথ।
অনুমোদিত প্রস্তাবের মধ্যে ১০-২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এক ডজনেরও বেশি গ্রিড-সংযুক্ত সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ২১০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড-সাইকেল প্ল্যান্টের সংশোধিত শুল্ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ফটিকছড়ি, পাবনা, নোয়াখালী, হাটাজারী, মৌলভীবাজার, চকরিয়া, নীলফামারী, রামু, বিবিয়ানা, মংলা ও হেমায়েতপুরের প্রকল্পের প্রস্তাব যাচাই করেছে।