দেশজুড়ে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বছরের শেষ সময়ে এসে পুরোনো দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং নতুন পেঁয়াজ এখনও পর্যাপ্তভাবে বাজারে না আসায় চাহিদা-সরবরাহে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। ফলে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, জাতীয় নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যস্ত সরকারের সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গড়ে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করছে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পেঁয়াজের বাজারে কোনো সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব মানতে নারাজ। সরকারের পক্ষ থেকে আমদানি বাড়ানো ও বাজার মনিটরিং জোরদারের মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপকভাবে ব্যস্ত। রাজনৈতিক সহিংসতার চাপও বেড়েছে। এ কারণে বাজার ব্যবস্থাপনায় নজর দেওয়া কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মুড়িকাটা ও নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে এবং পুরোনো পেঁয়াজও পুরোপুরি শেষ হয়নি। অর্থাৎ বড় ধরনের সংকট না থাকলেও দাম বাড়ার পেছনে সুস্পষ্ট কারণ পাওয়া যাচ্ছে না।
ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, মৌসুমের শেষ সময়ে সরবরাহ কম থাকায় সাময়িকভাবে দাম বেড়েছে, যা শিগগিরই স্বাভাবিক হবে। তবে খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পাইকারি পর্যায়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী গুদামে পেঁয়াজ মজুদ রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের সুযোগ নেই এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।