প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:৫৮ পিএম (ভিজিট : ২৭৪)

X
জিগাতলা কাঁচাবাজার এলাকায় একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে জান্নাতারা রুমী (৩০) নামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্তও করেছে পুলিশ। তাদের ধারণা, হতাশা থেকে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেলের পঞ্চম তলা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
রুমী এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি থানার যুগ্ম সমন্বয়কারীর দায়িত্বে ছিলেন। চলতি বছরের ৬ নভেম্বর ঘোষিত সমন্বয় কমিটিতে জায়গা হয় তার। রুমী নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার নাজিরপুর থানাধীন মো. জাকির হোসেনের মেয়ে। তার মায়ের নাম নুরজাহান।
পুলিশ জানায়, ভোরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করে রুমীর বিষয়টি জানায় ছাত্রী হোস্টেল কর্তৃপক্ষ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়।
হাজারীবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান জানান, রুমী ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে নার্সিংয়ে পড়ালেখা শেষ করেছেন। এরপর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করছিলেন। তবে বর্তমানে কোথায় চাকরি করতেন, নাকি বেকার ছিলেন তা জানাতে পারেননি তিনি।
রুমীর চাচাতো ভাই মেহেদী হাসান বলেন, ‘জিগাতলার ওই হোস্টেলে থাকতেন রুমী। তার দুটি বিয়ে হয়েছিল। দুই সংসারই ভেঙে গেছে। দুই সংসারে দুটি সন্তানও রয়েছে তার। বাচ্চারা তাদের বাবার কাছে থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুনেছি রুমীর রুমমেট বাড়িতে গেছেন। বুধবার রাতে একাই ছিলেন তিনি। তবে একই ফ্ল্যাটে পাশের রুমে অন্য রুমমেটরা ছিলেন। ভোরে গৃহকর্মী পঞ্চম তলায় তাদের ফ্ল্যাটের সামনে গেলে দরজা খোলা দেখতে পান এবং ভেতরে বাতি জ্বলতে দেখেন। এরপর ভেতরে উঁকি দিলে রুমীকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনিই সবাইকে ডেকে তুলেন বলে শুনেছি।’
ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জিসানুল হক জানান, ওই তরুণীর মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়- পারিবারিক কলহের কারণে বেশ কিছুদিন হতাশায় ভুগছিলেন জান্নাতারা রুমী।
রুমীর স্বজনরা বলছেন, সাংসারিক বা পারিবারিক বিষয়ে হতাশা থেকে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন রুমী। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিস্তারিত তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানান তারা।