প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:০৬ পিএম (ভিজিট : ১৪১)

X
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) জন্মভূমিতে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় করে রাখতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান দেশের মাটিতে অবতরণ করবে।
তারেক রহমানকে ঘিরে রাজধানীর পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় নির্মিত সংবর্ধনা মঞ্চ প্রায় প্রস্তুত। পুরো এলাকাজুড়ে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে সারাদেশ থেকে ঢাকায় মানুষের ঢল নামতে শুরু করেছে। দূর থেকে হলেও এক নজর দেখা ও তার কণ্ঠ শোনার প্রত্যাশায় ইতোমধ্যে কয়েক লাখ মানুষ রাজধানীতে এসে পৌঁছেছেন।
এরই মধ্যে পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় সবার দৃষ্টি কেড়েছেন ধানের শীষ দিয়ে তৈরি ব্যতিক্রমধর্মী পোশাক পরা এক ব্যক্তি। তার নাম ইউনুচ হাওলাদার। তিনি পটুয়াখালী জেলার দুমকী উপজেলার বাসিন্দা। ধানের শীষ কেটে নিজ হাতে তৈরি করা এই পোশাক পরে তিনি সংবর্ধনা স্থলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তার এমন উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তাকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছবি তুলছেন, ভিডিও করছেন এবং লাইভে যাচ্ছেন।
ইউনুচ হাওলাদার ২০১৮ সালের আগ পর্যন্ত রাজধানীর শ্যামনগর থানা শ্রমিক দলের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একাধিক মামলার কারণে তিনি পরে গ্রামের বাড়িতে চলে যান এবং বর্তমানে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে বিএনপির রাজনীতির প্রতি তার আগ্রহ অটুট। দেশের যেকোনো বড় সমাবেশেই তাকে দেখা যায়।
গণমাধ্যমে ইউনুচ হাওলাদার বলেন, “আমি শুধু নেতাকে দেখার জন্য ২০ তারিখেই ঢাকায় এসেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত আমার নেতা না আসবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কষ্ট মনে করি না।”
তিনি আরও বলেন, “রাতে ঘুমানোর সময় পোশাক খুলে রাখি, ফজরের নামাজের পর আবার পরি। ১৭ বছর পর তারেক রহমান যখন এই মঞ্চে উঠে কথা বলবেন, তখন মানুষের মন-প্রাণ ভেসে যাবে।”
এদিকে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি দলীয় স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে বিএনপিও অতিরিক্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে আহ্বায়ক এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে সদস্য সচিব করে একটি সংবর্ধনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোও পৃথকভাবে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।